অঞ্জন দত্ত, জন্ম: জানুয়ারি ১৯, ১৯৫৩, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত। আরো জানতে
এই ব্লগটা অঞ্জনের গান প্রেমীদের জন্য। আমার হাতে এখন অফুরন্ত সময়, অঞ্জনের গান শুনছি, ভাবলাম লিখে রাখি, পড়া যাবে কিন্তু তাও হচ্ছেনা। পায়ের সাথে চোখের সমস্যায়ও ভুগছি। শুনে শুনে লেখা তাই ভুল থাকবেই, ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।

দেখেছি তোমায়

 


বেইলী রোডের ধারে, আমি দেখেছি তোমায়
রাতের অন্ধকারে, আমি দেখেছি তোমায়
আমার বউ বাজারে,আমি দেখেছি তোমায়
দু'দিকের কাঁটা তারে আমি দেখেছি তোমায়


এখানে তুমি হাসি মল্লিক,ওখানে সকিনা
এখানে তোমার দাম পঞ্চাশ, ওখানে কত জানিনা
নিয়ন আলোয় ঝলসে যাওয়া দুই শহরের রাত
বেঁচে থাকার জন্য কেনা বেচার দুটো হাত
ডলারের হার কমলে, তাদের দর বদলায়
চোখের জল কিংবা পানি, সেতো নোনতাই থেকে যায়।


কারো খদ্দের টয়োটা চড়ে, কারোর মারুতি জেন
কারো চোখে দিশি নেশা, কারোর ফরেন
তবু চাহিদা সেতো একটাই, একটুখানি সুখ
তাই একই ভাবে লাঞ্ছিত হয় দুটি দেশের মুখ
আবার সকাল আসে, ওরা স্নান করে যায়
দুজনেই মনে মনে, বাংলায় গান গায়।
ডলারের হার কমলে, তাদের দর বদলায়
চোখের জল কিংবা পানি, সেতো নোনতাই থেকে যায়।


এখানে ঘোলাটে গঙ্গার জল, ওখানে ইছামতি
নোংরা নষ্ট, হাজার কষ্ট তবু বয়ে চলে ঠিকই
চেপে রাখা ক্ষত,যত যত হাহাকার
বিশ্বের কাছে দেনার দায়ে লাঞ্ছিত বারবার
তবু আবার রঙ চাপিয়ে,দাঁড়াতেই হয়
বেঁচে থাকার জন্য, বিশ্বের রাস্তায়।
ডলারের হার কমলে, দেশের দর বদলায়
চোখের জল কিংবা পানি, সেতো নোনতাই থেকে যায়।

বানের জলে

কত শিক্ষা, কত বুদ্ধি, কত কোটি কোটি টাকার বদলে
বানিয়েছে বোমা আমার দেশ আমায় রক্ষা করবে বলে
সেই একই দেশে গোটা শহর যায় ভেসে বানের জলে


কিসের জন্য আইন কানুন প্রশাসন
আমার পাশের দেশের মেয়েটা সুরক্ষা পায়না যখন
প্রকাশ্যে হাওড়ায় সেই মেয়েটির নির্যাতন


কেউ ছাব্বিশে মার্চ আকড়ে ধরে বেঁচে থাকতে চায়
কেউ স্বাধীন হবার দায়ে ফুটপাতে প্রান হারায়
একটা লিখার জন্য সাত্তার হাশমি খুন হয়
কোন সাহসে বুকে বোমা বাঁধে একটা তামিল মেয়ে
কিসের জন্য ধ্বংসের স্বপ্ন দেখে সে
নিভে গেল কেন তার চোখের আলো ঐ কচি বয়সে
কী লিখব, কী গাইব আমি আজ এ অসময়
কিসের জন্য তোমাদের এই জলসায়
আমার কলম থেমে যায় বারবার একই লজ্জায়
সত্যি কথা বলতে কি পারছি আমি তোমায়
আমার পঞ্চাশ বছরের স্বাধীনতা গেল কোথায়

আমার গান

পরবর্তী গান, অঞ্জন দত্ত ঢাকা সফরের মাঝামাঝি শান্তি নগরের হোয়াইট হাউজ হোটেলে সুত্রপাত। তারপর কখনও গ্রীন রুমে, কখনও রেস্তোরায়, আবার কখনও চিঠাগং থেকে ঢাকার সুবর্ণ এক্সপ্রেসে একটু একটু করে লেখা। ঢাকা সফরের শেষ দিন, আমাদের বাংলাদেশের শিল্পি মকসুদের সঙ্গে আড্ডা জমে উঠেছে, মাকসুদের গাড়িতে বসে ওর অপ্রকাশিত নতুন গান শোনা হচ্ছে। অঞ্জনও কম যায়না, রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে গীটার বাঁজিয়ে ওরও নতুন গান শোনা হলো। এ গান প্রথম গাওয়া হলো এয়ারপোর্ট রোডে, সেদিনই বোধ হয় প্রথম অ্যালবামটির কথা উঠে। গীতাঞ্জলী অর্থাৎ জি সিরিজের খালেদ ভাই আমাদের সঙ্গেই ছিলেন, তিনিই প্রথম কথাটা তুললেন। বাংলাদেশ এবং ভারতবর্ষের শিল্পীদের নিয়ে মিলেমিশে একটা অ্যালবাম করা হোক। সবাইকে একত্র করে কিছু একটা প্রয়াস যদিও এখনো সার্থক হয়নি তবে ইচ্ছেটা রয়েছে ষোলআনা। অঞ্জন দা নিজেও খুবই আগ্রহী, যদি এ অ্যালবামটা আপনাদের ভালো লাগে, তাহলে পরের বার আরো জমিয়ে, আরো বৃহৎভাবে কিছু একটা করা যেতে পারে। কারণ আমাদের সকলেরই দৃঢ় বিশ্বাস যে আধুনিক বাংলা গান আজ যেখানে এসে দাড়িয়েছে সেখানে সমস্ত শিল্পীদের নিজেদের ব্যক্তিগত বৃত্ত থেকে বেড়িয়ে আসা দরকার এবং একত্র হওয়া অত্তন্ত জরুরী। আমি ব্যক্তিগতভাবে জানি অঞ্জন দা বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের গুনমুগ্ধ শ্রোতা এবং অনেকের গানের দ্বারা অনুপ্রাণিত। সেই অন্য শিল্পীদের প্রভাবটা অকপটে স্বীকার করতে প্রস্তুত। তাই অঞ্জন দত্ত বলছেন-


কিছু সত্যি কথা কিছু ভান
আর ছেলেবেলার অভিমান
যাই লিখে, যাই লিখে, যাই লিখে আমার গান
একটা পুরনো দুঃখের দোহাই
সিগারেটটা পুড়ে পুড়ে ছাই
কান্না পেতে পেতে গানটা আমার খোঁজে পাই


একটা পুরনো চিঠি কোন বইয়ের পাতায়
একটা অচেনা নাম আমার চেনা খাতায়
হয়তো ছেলেবেলা ফেলে আসা পাহাড়ি ফুল
হয়তো সুমন, কত নানান হৃদয়ের খবর
এই আমার গানের ভিতর
যায়নি সে, যায়নি সে, যায়নি সে যায় আপন পর


একটা পাগল হাওয়া আমায় হাতছানি দেয়
হয়তো ঢাকা থেকে আমার মনকে মাতায়
হঠাৎ খোঁজে পাওয়া নতুন গানের বারুদ
হয়তো মাকসুদ, কত ক্যাকটাস, কত পরশ পাথর
এই আমার হৃদয়ের ভিতর
যায়নি সে, যায়নি সে, যায়নি সে যায় আপন পর

তোমার জন্য





অন্যদেন জন্য গান লিখতে লিখতে ক্লান্ত হয়ে,
আমার নিজের ঘরের সবচেয়ে কাছের মানুষকে নিয়ে এ গান



তোমার জন্য কোন গান লিখা হয়নি আমার
তোমার জন্য কোন সুর খোঁজা হয়নি আমার
শুধু তোমার জন্য বাঁজেনি কখনো এই গীটার
তবু তুমি ছাড়া হয়নি যে একটাও রাত্রি কাভার
তবু তোমার জন্য কোন গান লিখা হয়নি আমার
শুধু তোমার জন্য কোন সুর খোঁজা হয়নি আমার




আমার গানটা সে শুধুই ঘুরা ফেরা করে
রোজকার কেনাবেচার বাজারে
কুড়িয়ে পাওয়া হাততালি আর খুচরো পয়সায়
সাদাকালো শহরের জলসায়
তাই তোমার জন্য কোন গান খোঁজে পায়না বাজার


মনের কথা নাকী বেচে দেওয়া যায়
ভালবাসা নাকী বেচে দেওয়া যায়
তাই তোমার জন্য গান শুধুই মনে ধরে রাখা
তোমার জন্য গান আমার ভেতরে থাকা
তোমার জন্য গান, শুধু গানের জন্য গান
শুধু একলা বসে নিজের কাছেই গাওয়া
তোমার জন্য তাই গান হয়ে উঠেনি তোমার
তোমার জন্য কোন সুর খোঁজা হয়নি আমার
তোমার জন্য বাজেঁনি কখনো এই গীটার

ছাদের গান



একটা ছেলে, গীটার খুলে, গুনগুনিয়ে লিখে যায়
ছাদের কোণে, আপন মনে, লিখে লিখে গান গায়
পাশের বাড়ির সুরচিতা সকাল থেকে বেপাত্তা
আজকে যে তার পাকা দেখার, বাড়ছে সবার চিন্তা
কানাঘুষোর থানা পুুুলিস বাড়ছে সবার মান অপমান
এসব নিয়ে ছাদের ছেলের গুনগুুুনিয়ে লেখা গান
সবাই জানে নন্দী বাড়ির কেন এমন হলো হাল
সুরচিতা মেয়েটা ভাল শুধু বন্ধুটি তার নকশাল


এটা তিরিশ বছর আগের কথা, তিরিশ বছর আগের কবিতা
হলদে হয়ে হারিয়ে গেছে পাড়ার কোন চিলেকোঠা


বিকেল থেকে বোষ বাড়িতে কান্নাকাটির হুলোস্থুল
কলঘরেতে বন্দী হয়ে রয়েছে বসে পুতুল
ছাদের কোণে আপন মনে যায় লিখে যায় ছেলেটা
একটা খাতা, একটা কলম তার পুরনো গীটার
আবার থানায়, আবার পুলিস আবার কত হা হুতাশ
দরজা ভেঙে পুতুল তো নেই শুধুই যে তার লাশ
পাড়ার সবাই যায় চেপে যায় হিন্দু পাড়ার অপমান
পুতুলটাতো ছিল ভাল শুধু বন্ধুটি তার মুসলমান


এটা কুড়ি বছর আগের কথা, কুড়ি বছর আগের কবিতা
হলদে হয়ে হারিয়ে গেছে পাড়ার কোন চিলেকোঠা


ছ'দিন আগে বর্ণালি দির হঠাৎ করে টেলিফোন
যাচ্ছি ছেড়ে তোদের পাড়া ভাল থাকিস অঞ্জন
পাড়ার সবাই সাবেকী তাই জানলা দিয়ে দেখে যায়
সাঝ সকালে সেলাই দিদি টেক্সি করে চলে যায়
ফিসফিসিয়ে মিলেমিশিয়ে সবাই হাসে গুলতানি
এই কারণে পাড়াটা গেল বুড়ো বয়সে ভিমরতি
সবাই জানে বর্ণালি দির স্বামীর রাতের অত্যাচার
তবু এই বয়সে নতুন করে এই পাড়াতেই সংসার


পায় খুজে পায় গরম খবর পাড়ার মোড়ে চায়ের দোকান
পায় খুজে পায় সেই ছেলেটা ছাদের কোণে নতুন একটা গান

চোখ দুটো

Play




চোখ দুটো দেখছে কী সত্যি
নাকী সব খবরের কাগজ
মন থেকে বলছি কী কথাটা
আমরা সবাই রোজ রোজ,
শেষ কবে কান্নাটা কাঁদলে
পড়ছে কী মনে, নাকী ভুলেছ
ফুল পাখি গাছ পালা বৃষ্টি
শেষ কবে এইসব ভেবেছ;
অন্যের জন্যে কী কষ্টে
দুঃখটা রাগ হয়ে যায়
মন থেকে কোন কিছু দিয়ে দিতে
করছে কি আজ কাল ভয়, ভয়,
ভালবাস মানে একটি বাসা কী
ঘরে ফিরে আসা মানে আসা কী
বিশ্বাসে বিশ্বাস আছে তো
চলছি, না ভেসে ভেসে যাচ্ছি

পাহাড়ি গান



কুয়াশায় ভেঁজা ভাসা ভাসা সেই পাইন গাছের ফাঁকে ফাঁকে রোদ্দুর
খাদের ধারে শুয়ে শুয়ে হাতে পায় হলদে সবুজ রং
ছিলনা বালাই সময়ের শুধু  আকাশে একটা নেপালী গানের সুর
আমার পাহাড়ি ছেলেবেলার একটা গান

সূর্যের গন্ধটা নিয়ে পকেটে আমার কেটে গেছে কত রাত
হাতের মুঠোয় শিশির ভেঁজা গোটা দার্জিলিং কেলিম্পং
আমার সাহেবি স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে সেই চ্যাপ্টা ভালবাসা
আমার পাহাড়ি ছেলেবেলার একটা গান

আজ সূর্যটা গেছে হারিয়ে আমার পকেট থেকে, কে জানে কোথায়
কুড়িয়ে পাওয়া নুড়ি পাথর পাহাড়ি ফুল গেছে শুকিয়ে
খুঁজে ফিরি শুধু হাততালি এই সাদাকালো শহরের জলসায়
সেই চ্যাপ্টা ভালবাসা গেছে ফুরিয়ে

হয়তো নেপালী ছেলেটা এখনো সেই পাহাড়ের গায়ে গীটার বাঁজায়
আমার ছুটির ফাঁকে খুঁজে ফিরি তার চোখের হলদে সবুজ রং
কোথায়, কোথায়, কোথায় আমার মুঠোর ভেতর আমার দার্জিলিং
শুধু গানেই থেকে গেছে আমার পাহাড়ি গান

ঢাকা 1215



1 2 1 5


402 গ্রীণ রোড ঢাকা 1215
লিখে লিখে হাত মন পেন ভেঙে গেছে কোন উত্তর আসেনি হায়


402 গ্রীন রোড একষট্টিটা চিঠি
কত ঈদ বড়দিন এলো, চলে গেল, কোন উত্তর আসেনি
জয়ি জয়ি জয়ি জয়ি জয়িতা আসমা জয়িতা
জয়ি জয়ি জয়ি জয়ি জয়িতা, ঢাকা 1215


মনে পড়ে কি সেই নিউ মার্কেটের হঠাৎ বেমক্কা
ধাক্কা লেগে পড়ে যায় সব কেনাকাটা, তুমি আর তোমার মা
ট্যাক্সি ডেকে দিয়ে ঠিকানার লেনদেন বাঙালীর লৌকিকতা
মিষ্টি হেসে তুমি চলে গেলে লিখে দিয়ে চিরকুটে ঠিকানা


৪০২ গ্রীণ রোড আদৌ কি আছে কোথাও
পার্ট ওয়ানে ফেল করে যাবো আমি ঠিক উত্তর যদি না দাও
হয়তো তোমার আছে বন্ধু অনেক সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে
তবে এইভাবে কেউ মনে রাখবেনা যেন সীমান্তের বেড়া পেরিয়ে
আছে পাসপোর্ট, আছে ভিসার হ্যাপা, ডলারের সমস্যা
তবু মনে মনে তুমি চলে আসতেই পারে আমাদের কলকাতা
দেশের দশের বিভেদ বারণ মানতে হবেনা
মনে মনে হাত ধরে চলো যাই চলে মনের ঠিকানা


জয়ি জয়ি জয়ি জয়ি জয়িতা আসমা জয়িতা
জয়ি জয়ি জয়ি জয়ি জয়িতা, ঢাকা 1215






হ্যালো বাংলাদেশ



হ্যালো, আমায় শুনতে পাচ্ছো কি
মনে আছে কি সেই টেলিফোনের গান
চলো হয়ে যাক গানে গানে একাকার আবার
তোমার আমার আসমান
এই দুরাভাষে বারবার ফিরে ফিরে আসা
একি অদ্ভুত ভালবাসার টান
চলো হয়ে যাক এই রাত তোমার আমার
আবার নতুন একটা গান
হ্যালো বন্ধু আমার, এই দূরে দূরে থাকা হোক শেষ
গানে গানে কেটে যাবে আরো একটা রাত
হ্যালো, হ্যালো বাংলাদেশ


আমার শহরের ছোটখাট ব্যথা নিয়ে আমার সাদামাটা গান
মালা বেলা বোসের কান্নার সুর, ছোটখাট মান অভিমান
আজ তোমার শহরের নিয়ন আলোর ব্যথা শুনতে যে চায় এই মন
জানি তোমার ঘরেও লুকিয়ে কাঁদছে কত সাবিনা কি রুবিনা খাতুন
হ্যালো বন্ধু আমার, এই দূরে দূরে থাকা হোক শেষ
গানে গানে কেটে যাবে আরো একটা রাত
হ্যালো, হ্যালো বাংলাদেশ


ঝাপসা হয়ে গেছে শহর দু'জনার, এখন রাত বারোটা
লুকিয়ে কাঁদছে কলকাতা এখনো, কাদঁছে কি তোমার ঢাকা
চলো কান্নায় বয়ে গিয়ে খুজে পাই আমাদের হারিয়ে যাওয়া পরিচয়
দুটো শহরতো আলাদা হতেই পারে তুমি আমি আলাদাতো নয়


হ্যালো বন্ধু আমার, এই দূরে দূরে থাকা হোক শেষ
গানে গানে কেটে যাবে আরো একটা রাত
হ্যালো, হ্যালো বাংলাদেশ




লাকি আখন্দ


১৯৯৮, এপ্রিল মাস নাগাদ আমি প্রথম বাংলাদেশ যাই, গান গাইতে। ঢাকার ন্যাশনাল মিউজিয়াম অডিটোরিয়ামে আমাদের শো। প্রথম বার ঢাকা, হল ভর্তি শ্রোতা, দারুণ লাগছে। হঠাৎ শো এর মাঝামাঝি আমাদের জলসার উদ্যোগতা নিমা রহমান আমায় জানান যে হলে একজন শিল্পী উপস্থিত, যিনি একসময় খুবই জনপ্রিয় ছিলেন। তাকে আমি চিনি না, তার গানও কখনো শুনিনি। কিন্তু একেবারে নিছক আসর জমানোর উদ্দ্যেশে হঠাৎ তাকে মঞ্চে আসতে আহ্বান করলেন। তিনিও দিব্যি উঠে এলেন, এবং আমার সাথে গান বাঁজনা করতে শুরু করে দিলেন। যদিও তাকে যখন জিগ্যেস করেছিলাম আমার কোনটা গাইবো বলুনতো, তিনি বলেছিলেন আমার গান আদৌ শুনেন নি। দিব্যি গান হওয়া হলো, আসর জমে গেল। বহু বছর যে শিল্পী গান গাওয়া বন্ধ করে চুপ মেরে বসেছিলেন, হঠাৎ আবার গান গেয়ে উঠলেন। তারপর তার সঙ্গে তেমনভাবে আর কোন যোগাযোগ হয়নি। কিন্তু যে কারণে এসব কথাগুলি বলছি তা হলো, জীবনে খুব কমই আমি অন্য কোন শিল্পীর সঙ্গে গান গাইতে গিয়ে এতটা এনজয় করেছি। তাই ভাবলাম গল্পটা আপনাদের বলি।


দুজনেই থাকে দুটো দেশে
দুজনেই গান বেচে খায়
গানে গানে কোন এক মঞ্চে
হঠাৎ দেখা হয়ে যায়।
একজন বাজায় গীটার
আর একজন কী বোর্ড
একজন গান গেয়ে চলে
আর একজন দেয় সংগত,
মিলেমিশে একাকার হয়ে যায় গান
সে দিনের সেই জলসায়
একাকার হয়ে যায় ঠিকানা
কলকাতা কিংবা ঢাকায়।
এটা খুজে পাওয়ার গল্প
এটা গানের গল্প নয়
একজন খুজে পায় বন্ধু
আর একজন হয়তোবা ভাই।


ব্যাক স্টেজে সিগারেট লেনদেন
তাড়াহুড়ো করে পরিচয়
টুকরো হাসি আর হ্যান্ডশেক
তারচেয়ে বেশি কিছু নয়।
তবু মনে মনে সব বাঁধা পেরিয়ে
কত কিছু যায় ঘটে যায়
মুখে তারা কিচ্ছু না বললেও
হৃদয়ে দাগ কেটে যায়।
গান নিয়ে দজনের কারবার
গানের জোরেই পরিচয়
গানের দৌলতে কাছে আসা
আর বাচার জন্য বিদায়।
একজন ফিরে আসে দেশে
আর একজন দেশে থেকে যায়
দুজনের খুজে ফিরো রোজগার
কলকাতা কিংবা ঢাকায়।




একজন ফিরে আসে দেশে
আর একজন দেশে থেকে যায়
দুজনেরই হয়তো অজান্তে
কখনো বা কান্না পায়।
একজন বাজায় গীটার
আর একজন কী বোর্ড
দুজনেই বেচে চলে গান
বাচারই দূর দৌড়।
দুজনেই হয়তো বা ভাবে
আবার কোন জলসায়
গান হবে কাছে আসার জন্য
পয়সার জন্য নয়।
একজন চায় বড় বেশি চায়
একজন হয়তো বা কম
একজন যদি হয় অঞ্জন
আর একজন লাকি আখন্দ


নীলা



নীলা তুমি ছলছল চোখে কেন কল তলাতে
একা একা দাড়িয়ে
ধুম করে নোনা ধরা দরজাটা কেন তুমি বন্ধ করে দিলে
হাতে ঐ খোলা শিশিটাকে তুমি কেন রয়েছো আকড়ে ধরে
নীলা তুমি ছলছল চোখে কেন কল তলাতে।।


শমি তুমি কেন গায় কেরোসিন মেখে বসে এই রান্না ঘরে
শুনতে কী পারছো না দুপুরের কোকিলটা ডাকছে অনেক্ষণ ধরে
জানলার বাইরে হলদে আকাশটা তোমার অপেক্ষায় হাতছানি দিয়ে যায়
এখনো কি কেরোসিন মেখে সেই রান্না ঘরে।।


কালকের সকালের পত্রিকায় তোমার নামতো ছাপা হবেনা
তোমার এই চুপু চুপি প্রতিবাদে কারো কিছুই এসে যাবে না।।
যদি চার দেয়ালের গন্ডিটা পেরিয়ে চলে যেতে পারো
তুমি যেতে পারো বেড়িয়ে ব্লাউজে কলম, আর উদ্ধত মাথা নিয়ে,
বুক ভরা দম নিয়ে পালাবে কি, থাকবে
এখনো ছলছল চোখে সেই কল তলাতে


সাবিনা শ্বশুর বাড়ি থেকে পাড়ি দিয়ে সেলোয়ার সেলাই করে খায়
পারভীন প্রথম আলোর পাতায় লিখে তার খরচা যোগায়
পণ দিয়ে ঘর কিনে বর কিনে লান্চনা সহ্য করেনি যেন অনেক রুবিনা
এখনো কি ছলছল চোখে সেই কল তলাতে

পাসপোর্ট লাগেনা


রাস্তার ধারে বিছানা, পেটের ভেতরে খালি পেট
আকাশ থেকে পেপসি ডাকে, নেচে চলে জেনারেসন নেক্স্ট
কাছের দোকান, কাচের শার্সি, টিভির ভেতরে চ্যানেল ভি
তুমি আবার হেসে উঠো, আমি আবার নেচে উঠি
পেটের ক্ষিধে, যাই ভুলে যাই, শুধুই তোমায়, তোমাকেই চাই
তোমার কাছে যাই চলে যাই, আমার পাসপোর্ট লাগেনা।


বয়স আমার এখনো তেরো, মিশুক চালাই দিনের বেলায়
আব্বা আম্মা মনে পড়েনা, ঢাকার রাস্তাই ঠিকানা
তবু আবার রাতটা আসে, কাছের দোকান চ্যানেল ভি
তুমি আবার নেচে উঠো, আমি আবার বেঁচে উঠি
কান্না আমার, যাই ভুলে যাই, শুধু তোমায়, তোমাকে চাই
তোমার গানে যাই মিশে যাই, তোমার ভাষা অজানা।


পেটের ব্যথা ভুলে থাকি, সারাদিনের ঝন্জাটে
তিরিশ টাকা কামাতে হবে, যেভাবেই হোক রাস্তা ঘাটে
নেমে আসে রাত্তির আবার, নাচে রাতটা আমার সাথে
নাচতে নাচতে ঘুমিয়ে পড়ি, ভুলে গিয়ে পেটের ক্ষিধে
বাঁচার সাহস পাই খুজে পাই, শুধুই তোমায়, তোমাকে চাই
তোমার সুরে যাই মিশে যাই, তোমার নামটা অজানা।।


বাঁচার সাহস পাই খুজে পাই, শুধুই তোমায়, তোমাকে চাই
তোমার সুরে যাই মিশে যাই, তোমার নামটা জানি না