অঞ্জন দত্ত, জন্ম: জানুয়ারি ১৯, ১৯৫৩, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত। আরো জানতে
এই ব্লগটা অঞ্জনের গান প্রেমীদের জন্য। আমার হাতে এখন অফুরন্ত সময়, অঞ্জনের গান শুনছি, ভাবলাম লিখে রাখি, পড়া যাবে কিন্তু তাও হচ্ছেনা। পায়ের সাথে চোখের সমস্যায়ও ভুগছি। শুনে শুনে লেখা তাই ভুল থাকবেই, ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।

লা পালোমা জনি

জনাতন দে ডাকে সবাই তাকে বলে জনি
তার কুকুরের নাম কেন কিট কেউ জানে না
কিটকে নিয়ে কিটকিটে বুড়ো জনি
কুড়িয়ে কুড়িয়ে পাড় হয়ে যায় রাস্তা
সারাদিন, রাতে নেশা করে কুপোকাত বুড়ো জনি
সকাল সন্ধ্যে যখন তখন
যদি রাতের আকাশ দেয় বৃষ্টির আভাস কোন দিন
বেজে ওঠে হঠাৎ জনির গ্রামোফোন


লা পা লো মা লা লা
লা লা লা..................


চল্লিশ বছর আগেকার জনাতন জনি
টানটান শরীরে শুধুই ভালবাসা
নাচলে পরে যেত থমকে আমার শহর
জিন ক্যালি আমার কালছে কলকাতায়,
আমার ছোট্ট বেলার সেই লুকিয়ে ফেলা ম্যাকিনি
সপ্তপদী কত কত কখনো মেঘ
তারই হাত ধরে নাচতে শিখেছিল ওয়ান টু চা চা চা
উত্তম কুমার সচিত্রা সেন




লা পা লো মা লা লা লা
লা লা লা.......


আজ বুড়িয়ে গিয়ে তাই কুড়িয়ে হাটে জনি
আসে নাতো কেউ আর শিখতে তার কাছে নাচ
শুধু ফার্নিচারে জমে ওঠে অসংখ্য ধুলো
আর কার্ণিশে গজায় এলোমেলো বট গাছ,
তবু রাতের আকাশ যদি বৃষ্টির আভাস দেয় কোন দিন
বেজে ওঠে জনির ভাঙাচোঙা গ্রামোফোন।
দেয়ালে নাচে পাগলা জনির ছায়া
একলা নাচে পাগলা জনির মন।


লা লা....... লা লা লা.....

কলকাতা ১৬

এ সন্ধ্যের শহর আমার
যে রাস্তায় নিয়ন একাকার
এ রাস্তা বড়ই পুরনো
রাস্তা আমার ছেলেবেলা
এখান থেকে স্বপ্ন দেখা
আলো আঁধারি রেস্তোরায়
এ কলকাতা ১৬ আনার
এ কলকাতা ১৬ আমার।

এখানটাতেই প্রথম দেখা
আমার প্রথম প্রেমিকার
হাত ধরে হাটছে অন্য কেউ
হঠাৎ বড় হয়ে যাওয়া
যন্ত্রণা ভুলতে শেখা
কান্নাটা গিলতে শেখা
ঘুরে ঘুরে ফিরে এই রাস্তা
ভালবাসা খুজে পাওয়া
এ কলকাতা ১৬ আনার
এ কলকাতা ১৬ আনার
এ কলকাতা ১৬ আনার
এ কলকাতা ১৬ আমার।

এখনো কত শনিবার
মুখোমুখি সেই রেস্তোরায়
আলো আঁধারে আমার
ভালবাসার হাত ধরা যায়
এখনো রাতের আকাশ লাল
এখানে বন্ধুত্বের চোখ মাতাল
এখানে মনের ভিতরে এখনো
এখানে বাঁজানো যায় আমার গীটার
এ কলকাতা ১৬ আনার
এ কলকাতা ১৬ আনার
এ কলকাতা ১৬ আনার
এ কলকাতা ১৬ আমার

যেতে হবে

বেশ থাকা, ভাল থাকা চলছে গাড়ির চাকা, নতুন মারুতি
মাঝে মাঝে ফাঁকতালে সামান্য কালো টাকা, এ আর এমন কী
প্রমেোটার ধরে পাকাপাকি ভাবে করে নাও নিজের পৃথিবী
ছেড়ে চলে যেতে হবে তোমায়
সব ফেলে যেতে হবে তোমায়
একদিন দূরে যেতে হবে তোমায়
ছেড়েছুড়ে যেতে হবে তোমায়।


ইন্সটলমেন্টে পাওয়া যায় সবকিছু
বাংলায় যাকে বলে ধার
কোন মতে হাতাহাতি করে যদি পেয়ে যাও একটা ক্রেডিট কার্ড
সিনেমার মতো হয়ে যাবে সন্ধ্যে বেলার জগৎ তোমার।
ছেড়ে চলে যেতে হবে তোমায়
সব ফেলে যেতে হবে তোমায়
একদিন দূরে যেতে হবে তোমায়
ছেড়েছুড়ে যেতে হবে তোমায়।


পকেট না চাইলেও চাইছে তোমার মধ্যবিত্ত মন
চাই যে শরীরের শিরায় শিরায় টিভির বিজ্ঞাপন
এই চাই চাই, খাই খাই, শেষ নেই কোন একটাই জীবন
ছেড়ে যেতে হবে যখন তখন
তুমি জানো না যেতে হবে কখন
ফেলে রেখে দিয়ে সব আয়োজন
চলে যেতে হবে যখন তখন।


জানলায়, দরজায় সাদাকিলো পর্দায়, সাদা সাদা আসবাব সব
তুমি আমি রোজ রোজ মিলেমিশে হয়ে যাব সানন্দার প্রচ্ছদ
এইভাবে তাড়াতাড়ি, কাড়াকাড়ি করে নেব নিজেদের জগৎ
ছেড়ে চলে যেতে হবে তোমায়
একদিন ফেলে যেতে হবে তোমায়
দূরে চলে যেতে হবে তোমায়
সব ফেলে যেতে হবে তোমায়।

হাফ চকলেট

মনে মনে গান গেয়ে যাচ্ছি, খালি পেট
তুমি অন্য দিনের মতো, ইনফেয়ারেপলি লেট
আজ আর আমি ছাড়বনা, পকেটে রাখতে পারব না
তোমার জন্য রেখে দেওয়া হাফ চকলেট।

তুমি ভাবছ নিজেকে কি সংগীতা
এই চৌরাস্তা ছেড়ে, চলে যেতে পারি না
আজকে তোমার ভাঙবে ভুল
চখে দেখবে সর্ষে ফুল
থাকবে মনে চিরকাল এই ডেট।

আমি ভেবে দেখেছি, ভেবে কোন লাভ নেই আর
কখন কী মর্জি হয় হঠাৎ তোমার
আজ দেয়ালের সৌরভ গাঙ্গুলি
কাল লিওনার্দো ডিকেপ্রিও
তার ফাকে ফাকে আমার চকলেট।

এভাবে আর চলব না আমি নো, নো ওয়ে
তুমি যতই চিঠি লিখে যাও, রিকি মার্টিন কে
কেউ উত্তর দেবে না তােমায়,
থাকতে হবে এই কলকাতায়
তখন চাইলেও পাবে না, আমার চকলেট।

ভাবছি, খেয়ে ফেলছি চকলেটটা
আমি যাচ্ছি, ছেড়ে যাচ্ছি চৌরাস্তা
এখন মন আমার আর গলবে না
তুমি যতই খুজ মিলবে না
আমার মতো মনবিদ এই শহরে।

তুমি ভাবছো নিজেকে কি সংগীতা
তোমাকে ছেড়ে থাকতে পারব না
আজকে তোমার ভাঙবে ভুল
তখন চখেতে দেখবে সর্ষেফুল
থাকবে মনে চিরকাল এই ডেট।

এক যে ছিল গোরা

এক যে ছিল গোরা, এক যে ছিল কলকাতায়
সে করতো শুধু গান, কথায় কথায়
সেই এক যে ছিল গোরা, এক যে ছিল একটা দল
দলে দলে তারা, গানে গানেই মাতাল
কেউ শোনুক নাইবা শোনুক, নাইবা জানুক তারা কে
গোরা গাইত নিজের গান, গাইতো নিজের তাগিদে।


গোরা করে নি পরোয়া, পড়োয়া সময়কে
গাইত সময়ের গান, গাইত অনেক এগিয়ে
গোরার জন্ম সমুদ্দুরে, জন্ম থেকেই সে উত্তাল
গোরা বড়ই বাউন্ডুলে, গানে গানেই মাতাল
তাকে পোষ মানানো যায়নি, তাকে যায়নি শেখাতে
এই কলকাতা শহরে, বেঁচে থাকার হিসেব।


গোরা গাইতো শুধু গান, চায় নি গান বেচতে
তাই বেচাকেনার ভিড়ে, গোরা যায় নি দৌড়তে
গোরা চায়নি হতে মানুষ, চায় নি ধরা সে দিতে
তাই মানুষের হিসেবে, গোরা চায় নি বদলাতে
এবার আসল কথায় আসি, এটা গোরার গপ্প নয়
গোরা আমাদের ভিতরে, লুকিয়ে রাখা পরিচয়।


যদি পথ হারিয়ে তোমার হঠাৎ কান্না পায়
হয়তো খুজে পাবে গোরা, তোমার মনের দরজায়
আমি দেখেছি সেই গোরা, যাকে পোষ মানানো দায়
তোমার চোখের ভিতর, তোমার কলকাতার রাস্তায়
আমার আপোষ করা মনের ভিতর লুকিয়ে রাখা গান
গাইতো এক যে ছিল গোরা, এক যে ছিল গৌতম।

যার একটা নাম

অস্ট্রলিয়া থেকে উড়িষ্যা
দূরত্বটা কত জানি না
তবে যিশুর থেকে রামের দূরত্ব
নেই যে কোন, আমি জানি তা।

আমায় জানিয়ে দিয়ে গেছে যুগে যুগে
রক্তে মাখা কত অভিমান
কেউ পোষ কাঠকে কেরোসিনে পুড়ে
ব্রায়ান স্টুয়ার্ড স্টাইন আরেকটা নাম।

বাড়ছে প্রেমের সৈনিকদের তালিকা
জানছি আমি ফিরে ফিরে বারবার
দু'হাজার বছর আমার সভ্যতা
ইতিহাসটা বড়ই লজ্জার।

সেই আকাশ ভরা লজ্জা বুকে নিয়ে
শুরু নতুন শতাব্দি আমার
যেখানে ছ'বছরের শিশু একটা শহীদ
যেখানে ফিলিপ স্টুয়ার্ড স্টাইন আরেকটা নাম।

তাই মানুষ খুজে যাই উড়িষ্যায়
তাই মানুষ খুজে যাই অযোধ্যায়
সেই মানুষ খুজি ভ্যাটিকান শহরে
সেই মানুষ খুজে পাই কেউন জুড়ে।

একদিন বৃষ্টিতে

একদিন বৃষ্টিতে বিকেলে
থাকবেনা সাথে কোন ছাতা,
শুধু দেখা হয়ে যাবে মাঝ রাস্তায়
ভিজে যাবে চটি, জামা মাথা।
থাকবেনা রাস্তায় গাড়িঘোড়া
দোকানপাট সব বন্ধ
শুধু তোমার আমার হৃদয়ে
ভিজে মাটির সোঁদা গন্ধ।

একদিন বৃষ্টিতে বিকেলে
মনে পড়ে যাবে সব কথা
কথা দিয়ে কথাটা না রাখা
ফেলে আসা চেনা চেনা ব্যথা।
অদূরে কোথাও কোন রেডিওতে
এই পথ যদি না শেষ হয়
আর বৃষ্টির রং হয়ে যাবে নীল
আর আকাশের রংটা ছাই।

একদিন, বৃষ্টিতে একদিন
বৃষ্টিতে বিকেলে

ভাঙ্গা দেয়ালের গায়ে সাত পাকে বাঁধা কবে-
কার নুন শো তে কোথাও
আর বৃষ্টির ছাঁটে যাবে না দেখা দুজনের চোখের জল

ছমছম...
ছমছম চোখের জল

একদিন বৃষ্টিতে বিকেলে
আমরা ধরা পড়ে যাব দেখো ঠিক
ধুয়ে যাবে যত আছে অভিমান
ধুয়ে যাবে সিঁদুরের টিপ।
আর চটিটাও ছিঁড়ে যাবে তক্ষুনি
তাই পালানো যাবেনা যে কোথাও
রাস্তা যেমন তেমনি
শুধু লোকজন সব উধাও।

বন্ধু তোমার

আকাশটা আজ বড়ই নীল
আজ আমায় পিছু ডেকো না
যে রং তোমার চোখে সামিল
সে চোখ ভিঁজিয়ে দিও না।
বন্ধু তোমার আমি তাই
অন্য দাবি রেখো না।
ডেকো নাা...


বন্ধুত্বের হয় না পদবি
বন্ধু তুমি কেঁদো না
বন্ধু সবুজ চিরদিন
বন্ধুত্বের বয়েস বাড়ে না।
বন্ধু তোমার আমি তাই
আত্মীয়তায় বেধো না।
কেঁদো না...


হয়তো তোমার আনলায়
থাকবে না আমার জামা
ঝুলবে না তোমার বারান্দায়
আমার পান্জাবি পা'জামা।
তবু মনের জানালায়
অবাধ আনাগোনা।
দু'জনা...


হঠাৎ চা'য়ের সুগন্ধে
হঠাৎ কোন বইয়ের পাতায়
হঠাৎ মনের আনন্দে
আপন মনে কবিতায়।
হঠাৎ খুজে পাওয়া সুখ
চার দেয়ালে বেঁধো না।
ধরে রেখ না...


আকাশ হয়ে যাবে ফ্যাকাসে
তবু আমাদের ঘুড়ি
উড়বে মনের আকাশে
অনন্ত ছেলেমানুষি।
সেই ছেলেমানুষিটাকে
অন্য নামে ডেকো না।
পিছু ডেকো না...

আমার জানলা

আমার জানলা দিয়ে একটুখানি আকাশ দেখা যায়
একটু বর্ষা, একটু গ্রীষ্ম, একটুখানি শীত
সেই একটুখানি চৌক ছবি আকড়ে ধরে রাখি
আমার জানলা দিয়ে আমার পৃথিবী

সেই পৃথিবীতে বিকেলের রং হেমন্তে হলুদ
সেই পৃথিবীতে পাশের বাড়ির কান্না শোনা যায়
পৃথিবীটা বড়ই ছোট আমার জানালায়
আমার জানলা দিয়ে আমার পৃথিবী

সেই পৃথিবীতে বাঁচবো বলে যুদ্ধ করি রোজ
একটুখানি বাঁচার জন্য হাজার আপোস
সেই পৃথিবীর নাম কলকাতা কী ভারত জানি না
তুমি তোমার পৃথিবীরর নামটা জানো কী

তুমি বলবে আমার বেনিয়া পুকুর তোমার বেহালা
তুমি গন্ডি কেটে দেখিয়ে দেবে পশ্চিম বাংলা
হয়তো কেরালার আকাশ আর একটু বেশি নীল
তবু সেটাও কী নয় আমার পৃথিবী

আমার জানলা দিয়ে যায় না দেখা ইসলামাবাদ
শুধু দেখি আমি রোজ আমার পাশের বাড়ির ছাদ
একটা হলদে শাড়ি শুকোচ্ছে আর মোজার রংটা নীল
আজ পৃথিবীটা বড়ই রঙিন

কেউ জানলা খুলে অ্যালাবামায় বাংলা গানই গায়
কেউ পড়ছে কোরান বসে তার জাপানী জানলায়
তুমি হিসেব করে বলতে পারো প্যারিসের সময়
কিন্তু কার জানালায় কে কী দেখে
 হিসেব করা যায় কী বলো 
মনের জানলা আছে

মনের জানলা দিয়ে তুমি বেড়িয়ে পড়তে পারো
ম্যাক্সিকোতে বসে বাঁজানো যায় গীটার
কোথায় তুমি টানবে বলো দেশের সীমারেখা
আমার জানলা দিয়ে গোটা পৃথিবী

তাই জানলা আমার মানেনা যে ধর্মের বিবেদ
জানলা জাতীয়তাবাদের পরোয়া করে না
জানলা আমার পূব না পশ্চিমের দিকে খোলা
জানলা সেতো নিজেই জানে না

জানলা আমায় সকাল বেলায় শোনার ভৈরবী
আর সন্ধ্যে বেলায় শোনায় জনি কল্ড ট্রেইন*
জানলা আমায় সকাল বেলায় শোনার ভৈরবী
আর সন্ধ্যে বেলায় শুধু জঙ্গল ট্রেইন
গানের সুরে রেষারেষি, দেশাদেশি নেই
আমার গানের জানলা সেটাই পৃথিবী

সকাল বেলার ক্ষিধে



বন্যার জলে বহরম পুর ভাসছে
মেদেনী পুর খরার কবলে
দু'জন মৃত পূজোর ভিড়ের চাপে
দু'শজন অনাহারে,
নতুন একটা আয়ুরবেদিক বড়ি
পেটের ক্ষিধে দিব্যি ভুলিয়ে দেয়
আকাশ থেকে নিয়ন পেপসি ডাকে
জেনারেশন নেকস্ট বেচতে চায়,
এতো সব তোমার সকাল বেলার ক্ষিধে
সন্ধ্যে বেলা যাবে ফুরিয়ে
দেখতে দেখতে আরো একটা দিন চলে যাবে
জীবন থেকে হারিয়ে

গরম গরম খাবারের খবর
কম্পিউটারে বানানো আচার
বেছে নাও কোনটা তোমার চাই
যেটা পছন্দ যার,
চায়ের কাপটা হয়ে যাবে শিম্পান্জি
তোমার টিভির পর্দায়
ডিজিটাল ইদুর নাচতে নাচতে
নামতা পড়তে শেখায়।


এতো সব তোমার সকাল বেলার ক্ষিধে
সন্ধ্যে বেলা যাবে ফুরিয়ে
দেখতে দেখতে আরো একটা দিন চলে যাবে
জীবন থেকে হারিয়ে

দেশপ্রেমের জন্য আছে আনবিক মশলা
এক্জিমা দাদের মলম
আছে পঞ্চাস বছরের মিথ্যে গিলে ফেলার
সিনথেটিক বন্দে মাথরম,
আছে বিশ্বের জন্জাল হজম করে ফেলার
চৌক মধ্যবিত্ত রেসেপি
যখন তখন ঘাড়ে বসে ছেকে দেখে নাও
তোমার জননী জন্মভূমি,
মেট্রিকেতে পঞ্চান্ন পায়নি
তাই আত্মগাতি হলো একটি মেয়ে
ঘুষ দিলে তোমার ছেলে রোল নম্বর পাবে
ইংরেজি ইশ্কুলে।

এতো সব তোমার সকাল বেলার ক্ষিধে
সন্ধ্যে বেলা যাবে ফুরিয়ে
দেখতে দেখতে আরো একটা দিন চলে যাবে
জীবন থেকে হারিয়ে

কত ডলার কত ডলার চাই
বিক্রি হতে রাজি কোন দল
তুমি আমি স্কোর গুনে যাবো
ঠিক হয়ে গেছে খেলার ফলাফল,
রাখে হরি মারে কে দাদা
ওরা ভলিউডের রাজার ছেলে মেয়ে
তাই খেলার ছলে হরিণ মেরে বেড়ায়
শ্যুটিংয়ের অবসরে,
মসজিদ ভেঙ্গে মন্দির বানাবো
গীর্জার ভেতরে রে
এমন কি নতুন কথা বলো
সেক্স, লাই'স আর ভিডিও তে

এতো সব তোমার সকাল বেলার ক্ষিধে
সন্ধ্যে বেলা যাবে ফুরিয়ে
দেখতে দেখতে আরো একটা দিন চলে যাবে
জীবন থেকে হারিয়ে

কত খাবার, কত খাবার চাই
ক্ষিধের জ্বালায় মরছে স্যাটেলাইট,
ছব্বিশ ঘন্টার ক্ষিধে
তবু খালি খালি খালি খাই খাই,
পলেস্তারা খসা সংস্কৃতি
মেরা ওয়ালা রং চাপাও
জং ধরা পুরনো সুস্সুরি
রিমেক করে আবার বেচে দাও,
কমলা লেবুর খোসা বেটে মুখে মাখলে পরে
ত্বক তোমার থাকবে পরিষ্কার
চাকরি না পেলে ফলিডল খেলে
বম্বে বেকারত্ব হার

এতো সব তোমার সকাল বেলার ক্ষিধে
সন্ধ্যে বেলা যাবে ফুরিয়ে
দেখতে দেখতে আরো একটা দিন চলে যাবে
জীবন থেকে হারিয়ে

দেখেছি তোমায়

 


বেইলী রোডের ধারে, আমি দেখেছি তোমায়
রাতের অন্ধকারে, আমি দেখেছি তোমায়
আমার বউ বাজারে,আমি দেখেছি তোমায়
দু'দিকের কাঁটা তারে আমি দেখেছি তোমায়


এখানে তুমি হাসি মল্লিক,ওখানে সকিনা
এখানে তোমার দাম পঞ্চাশ, ওখানে কত জানিনা
নিয়ন আলোয় ঝলসে যাওয়া দুই শহরের রাত
বেঁচে থাকার জন্য কেনা বেচার দুটো হাত
ডলারের হার কমলে, তাদের দর বদলায়
চোখের জল কিংবা পানি, সেতো নোনতাই থেকে যায়।


কারো খদ্দের টয়োটা চড়ে, কারোর মারুতি জেন
কারো চোখে দিশি নেশা, কারোর ফরেন
তবু চাহিদা সেতো একটাই, একটুখানি সুখ
তাই একই ভাবে লাঞ্ছিত হয় দুটি দেশের মুখ
আবার সকাল আসে, ওরা স্নান করে যায়
দুজনেই মনে মনে, বাংলায় গান গায়।
ডলারের হার কমলে, তাদের দর বদলায়
চোখের জল কিংবা পানি, সেতো নোনতাই থেকে যায়।


এখানে ঘোলাটে গঙ্গার জল, ওখানে ইছামতি
নোংরা নষ্ট, হাজার কষ্ট তবু বয়ে চলে ঠিকই
চেপে রাখা ক্ষত,যত যত হাহাকার
বিশ্বের কাছে দেনার দায়ে লাঞ্ছিত বারবার
তবু আবার রঙ চাপিয়ে,দাঁড়াতেই হয়
বেঁচে থাকার জন্য, বিশ্বের রাস্তায়।
ডলারের হার কমলে, দেশের দর বদলায়
চোখের জল কিংবা পানি, সেতো নোনতাই থেকে যায়।

বানের জলে

কত শিক্ষা, কত বুদ্ধি, কত কোটি কোটি টাকার বদলে
বানিয়েছে বোমা আমার দেশ আমায় রক্ষা করবে বলে
সেই একই দেশে গোটা শহর যায় ভেসে বানের জলে


কিসের জন্য আইন কানুন প্রশাসন
আমার পাশের দেশের মেয়েটা সুরক্ষা পায়না যখন
প্রকাশ্যে হাওড়ায় সেই মেয়েটির নির্যাতন


কেউ ছাব্বিশে মার্চ আকড়ে ধরে বেঁচে থাকতে চায়
কেউ স্বাধীন হবার দায়ে ফুটপাতে প্রান হারায়
একটা লিখার জন্য সাত্তার হাশমি খুন হয়
কোন সাহসে বুকে বোমা বাঁধে একটা তামিল মেয়ে
কিসের জন্য ধ্বংসের স্বপ্ন দেখে সে
নিভে গেল কেন তার চোখের আলো ঐ কচি বয়সে
কী লিখব, কী গাইব আমি আজ এ অসময়
কিসের জন্য তোমাদের এই জলসায়
আমার কলম থেমে যায় বারবার একই লজ্জায়
সত্যি কথা বলতে কি পারছি আমি তোমায়
আমার পঞ্চাশ বছরের স্বাধীনতা গেল কোথায়