অঞ্জন দত্ত, জন্ম: জানুয়ারি ১৯, ১৯৫৩, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত। আরো জানতে
এই ব্লগটা অঞ্জনের গান প্রেমীদের জন্য। আমার হাতে এখন অফুরন্ত সময়, অঞ্জনের গান শুনছি, ভাবলাম লিখে রাখি, পড়া যাবে কিন্তু তাও হচ্ছেনা। পায়ের সাথে চোখের সমস্যায়ও ভুগছি। শুনে শুনে লেখা তাই ভুল থাকবেই, ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।
ভালবাসি তোমায় (১৯৯৬) লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ভালবাসি তোমায় (১৯৯৬) লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রাজা রায়

রুপালি পর্দাটাকে হাতছানি দিয়ে ডাকে রাজা
কতকত সুন্দরী ঠোঁটে রঙ মেখে বলে আজা মেরি জান আজা
চব্বিশ বছরের মন বড় চঞ্চল, স্বপ্ন এখনো তরতাজা
শুধু জুতোর শুকতলা ক্ষয়ে গেছে, ঘুরে ঘুরে স্টুডিও'র দরওয়াজা
একটা চান্স, দিয়ে দেখুননা
একটা সুযোগ, দিন আমায়
প্রমান করবো এই আঁকালে
বোম্বাই সব নয়, বেঁচে আছে বাংলা
বেঁচে আছে রাজা রায়,
একটা ব্রেক, দিয়ে দেখুননা
একটা টেপ, দুটো নয়

প্রমান করবো, এই আঁকালে
বোম্বাই সব নয়, বেঁচে আছে বাংলা
বেঁচে আছে রাজা রায়

ক্লাস ফোর, জুতো চোর,
ইশকুল থেকে নাম বহুদিন হয়ে গছে কাট
মুখ বুঝে সয়ে নিতে হচ্ছে বাবার হোটেলের সব ঝঞ্ঝাট
সামান্য দোষ আছে, তালেবশ্যই তার, বাদবাকি সব ফিটফাট
তেললিন জামাটা ধুয়ে ধুয়ে ক্ষয়ে গেছে, চকচকে তবু অ্যালবাট
একটা চান্স, দিয়ে দেখুননা
একটা সুযোগ, দিন আমায়
প্রমান করবো, এই আঁকালে
বোম্বাই সব নয়, বেঁচে আছে বাংলা,
বেঁচে আছে রাজা রায়

একটা ব্রেক, দিয়ে দেখুননা
একটা টেপ, বেশি নয়
প্রমান করবো, এই আঁকালে
বোম্বাই সব নয়, বেঁচে আছে বাংলা
বেঁচে আছে রাজা রায়।

প্রতিশ্রুতি দেয় কতকত সহকারী
দেখি একটা সিগারেট দাও
আরেকটু মোটা হলে, এক্ষুনি হয়ে যেত
কেউ বলে না না রোগা হও,
কেউ বলে গোঁফ রাখ, কেউ শুধু বলে দেখ
কেউ  বলে আচ্ছা দাড়াও
জন্মদিনের সিনে, হিরোর পিছনে
আউট অফ ফোকাসে কোথাও।
একটা চান্স, দিয়ে দেখুননা
একটা সুযোগ, দিন আমায়
প্রমান করবো, এই আঁকালে
বোম্বাই সব নয়, বেঁচে আছে বাংলা,
বেঁচে আছে রাজা রায়

একটা ব্রেক, দিয়ে দেখুননা
একটা টেপ, বেশি নয়
প্রমান করবো, এই আঁকালে
বোম্বাই সব নয়, বেঁচে আছে বাংলা
বেঁচে আছে রাজা রায়

মাঝ রাতে ঘুম ভেঙে যখন তখন পায় কান্না পায়
তবু  স্বপ্ন দেখার এই ইচ্ছেটা কিছুতেই মরবার নয়,
পকেটেরর আঁধ খাওয়া সিগারেটে
 যখন সে আবার আগুনটা ধরায়
কালো আকাশের ঐ রুপালী চাঁদটাকে
সিনেমারই গান গায়
একটা চান্স, দিয়ে দেখুননা
একটা সুযোগ দিন আমায়
প্রমান করবোই, এই আঁকালে
বোম্বাই সব নয়, বেঁচে আছে বাংলা,
বেঁচে আছে রাজা রায়
একটা ব্রেক, দিয়ে দেখুননা
একটা টেপ, দুটো নয়
প্রমান করবো, এই আঁকালে
বোম্বাই সব নয়, বেঁচে আছে বাংলা
বেঁচে আছে রাজা রায়

শেষ বলে কিছু নেই

যখন মনের ভেতর সূর্যটা হটাৎ ডুবে যায়
যখন আশা ভরসা সব রাস্তা হারায়।
যখন ভর দুপুরে পথের ধারে একলা করে ভয়
যখন বাসের ভিড়ে গলার ভিতর কান্না চাপতে হয়।
জেনো তোমার মতই আমি হাতরে বেড়াই
জেনো তোমার মত আমারও বন্ধু একটা চাই।
যেমন মাঝ দরিয়ার নৌকো ফিরে আসে কিনারায়
ওরে মানুষ যখন আছে তখন হাত জুটে যায়।
শেষ বলে কিছু নেই
শেষ বলে কিছু নেই
শেষ যেখানে, যেনো শুরু সেখানে

মালা

তোমার জংলা পাড়ের ঢাকেশ্বরী শাড়ি
তোমার পিসি চন্দ্রের ঝুমকো কানের দুল,
আজ ১২ই মে, তাই সকাল থেকে
জন্মদিনের তোড়া তোড়া ফুল।
তোমার সানন্দার পাতা থেকে ছিঁড়ে নেয়া
রেনী পার্কের সংসার,
তোমার স্বামী আজ অনেক দিনের পড়ে
তোমার ঘরে নিয়েহাজারো বিদেশি উপহার।
এই শুভ দিনে নানান কাজের ফাঁকে
পড়ছে কি মনে তোমার,
এই ১২ই মে তুমি চলে গিয়ে ছিলে
জীবন থেকে আমার।
আজ যাও তুমি কোথায় চলে রোজ রাত্তিরে
মনের ভেতর ঘুমের ঘোরে,
তোমার সাজানো শরীরের ভেতরে
মালা তুমি কে, তুমি কে?

তোমার কথা বলা যেন মধুবালা
তোমার হাঁটা চলা সোফিয়া লরেন,
তোমার গন্ধ ফরাসী আনায় আনায়
অভিমান অপর্না সেন।
বৃষ্টি এলে চলে যাও জয়সালমির
শীতকালে গোদাই ক্যানাল,
দমদমে নামলে তোমারই বাড়িতে
কফি খায় ইমরান খান।
তোমার জন্য ওবেরয় ভাইদের
দরজা সদাই খোলা,
সাতার শেখার আলিয়ঁস ফ্রাঁসে
দিনগুলি ঘেরা।
তবু যাও তুমি কোথায় চলে রোজ রাত্তিরে
মনে ভেতর ঘুমের ঘোরে,
তোমার সাজানো শরীরের ভেতরে
মালা তুমি কে?

মনে পড়ে কি সেই মৌলালির মোড়
বাসস্টপে দুপুর বেলায়,
মনে পড়ে কি সেই রুবি রায়ের গান
শোনাতাম আমি তোমায়।
দুজনেরই চোখে ছিল বাঁচার স্বপ্ন
যেভাবে হোক যেমন করে,
ছিলনা যে কিছুই বেঁচার আমার
তাই যে গেলাম হেরে।
আজ রেইব্যান দিয়ে তুমি যতই ঢেকে রাখ চোখ
লুকোতে পারবে না,
এন্টালী সিনেমার পেছনের বস্তির
মৌলালির মালা,
আমি জানি তুমি কোথায় যাও রোজ রাত্তিরে
মনের ভেতর ঘুমের ঘোরে,
আমি দেখে ফেলেছি তোমার মনের ভেতর টা
আমি চিনি, আমি জানি তোমাকে.............. তোমাকে

মাসের প্রথম দিন

মাসের প্রথম দিনটা এই ধর্মতলার মোড়ে,
লালচে আলো কালচে হয়ে যাওয়া অশোকা বারে
তিনটে বড় হুইস্কি, পেপসিতে নেড়ে চেড়ে,
চেনা চেনা সেই চোখ, চীনে খাবার।
এই মাইনে পাওয়ার দিনটা, গড়ের মাঠটা ঘুরে,
ফিরবো আজকে আমি, একা ট্যাক্সিতে চড়ে।
ছেলেটা আমার থাকবে জেগে, আসবে যে তেড়ে ফুঁড়ে,
পকেটে আমার পিস্তল খেলনা।
আজ অন্ধকার এই গলির গন্ধ নাকে আসবে না,
বড় রাস্তার মাস্তানরাও কাছে ঘেঁষবে না।
ট্যাক্সিটাকে সোজা নিয়ে, দোরগোড়াতে লাগিয়ে দিয়ে
সব হয়ে যাবে সিনেমা।
চিকেনটা ভাই প্যাক করে দাও, বাড়ী নিয়ে চলে যাই।
যাবার আগে ওয়ান-ফর-দ্য-রোড হবে নাকি ভাই?
আবার তো সেই তিরিশটা দিন, হাঁড়িকাঠে জবাই।
ছোটোখাটো হয়ে থাকার যন্ত্রণা।

নামটা শুনেছি পড়িনি আমি, জীবনানন্দ দাশ,
লাশকাটা এই শহরে, আমি জীবন্ত লাশ।

দশটা পাঁচটা মনটা আমার করে শুধু হাঁস ফাঁস
মাসের প্রথম দিনটার অপেক্ষায়।
চেপে চেপে রেখে মান অভিমান, টিপে টিপে খরচা
চারটা চৌকো মধ্যবিত্ত বাঁচার প্রচেষ্টা,
পাল্টে যাবেনা কোনোদিন এই দুয়ে দুয়ে চার নামতা আমার
ক্যাবলাকান্ত কেরানীর কবিতা।

মিসেস আমার গুন গুন করে গাইছে আজকে গান
ভুলে গেছে সে ছেঁড়া ব্লাউজের লজ্জা অপমান,
সত্যি হবেনা জেনেও করছে, বন্ধক রাখা গয়নাগুলোর
উদ্ধার করে আনার নানান প্ল্যান।
একটা দিনের জন্যেও সব উল্টোপাল্টা হোক,
চুলোয় যাকগে আপোস অভাব লাভ লোকসান ক্ষোভ।
একটা রাতের জন্যেও সেই হারানো সুর বাজুক,
এই রাতটা তোমার আমার।
বেঁচে থাকি যদি তিরিশটী দিন আবার আসবো ফিরে,
নিয়ন আলো করে এলোমেলো ধর্মতলার মোড়ে,
হৃদয়ের সব যন্ত্রণা আমি দেব ঊজার করে,
মাসের প্রথম দিনটায় আবার।।

রাপ্পা রাপ্পা রাবা....দা রাপ্পা,  রাপ্পা রাপ্পা রু....

দেবলিনা

তোমার রজনীগন্ধা ধুপ-ধুনো পঁচিশে বৈশাখ
তোমার ধোপদুরস্ত সংস্কৃতি তোমারই থাক
হবার যা নয় কোনদিন, এখানেই থেমে যাক
দেবলিনা, কফি খাওয়া আর হল না আমার
বাকি কথা আজ এখানেই থাক।


আছে তোমার বাবার ইমারতের কারখানা, শহর গড়ার কল
আমার তাপটিমারা জিন্স, আমার ভাঙ্গা গীটার, আমার সম্বল
অর্থকড়ির প্রশ্ন এ নয়, তোমার আমার বিস্তর ফারাক
দেবলিনা, কফি খাওয়া আর হল না আমার
বাকি কথা আজ এখানেই থাক।


আমার কানের দুলটা, লম্বা চুলটা, ফেলেছে তোমাকে বড়ই লজ্জায়
মানাচ্ছেনা কিছুতেই আর আমাকে তোমার সাবেকী জলসায়
বৃষ্টি নামবে এখুনি, চলি আমি, বেস্ট অফ লাক
দেবলিনা, ভালোবাসা এক চার অক্ষরের বদনামি
তাই সে কথা থাক।


লেখাপড়া করে কেউ গাড়ি চড়ে, কেউ জানে তার আসল পরিচয়
আমার শিক্ষা জানান দিচ্ছে, বিলেত ফেরত আমার হবার নয়
সুদূরের পিয়াসী আমি, মনটা তাই বড়ই জঞ্জল
দেবলিনা, কেঁদে কেঁদে আর লাভ নাই কোন
মুছে ফেল তাই তোমার চোখের জল।


সময় আমার কড়া নেড়ে গেছে মাথার ভেতর, হৃদয়ের দরজায়
আটোসাটো হয়ে থাকব কি করে, চারিপাশে বড়ই অবক্ষয়
উপড়ে গেছে শেকড় আমার, বনেদিয়ানার আমি ছিন্নমূল
দেবলিনা, দেখেছিলে যেটা আমায় নিয়ে
স্বপ্নতো নয়, চোখের ভুল।

ঘর

ছুটছে আমার ম্যাটাডোর, দিল্লী কিংবা বোম্বে রোড
আবার গাইতে হবে গান, কল্যাণী নয় বর্ধমান কুড়িয়ে বেড়াই সুখ্যাতি, একলাই আমি ব্যান্ডপার্টি
আমার মন করে কেবল কেমন কেমন
ঘর, ফেরা হয়নি আমার ঘর
চেনা হয়নি আমার ঘর
জানা হয়নি মনের মানুষটাকে


অবিশ্রান্ত ক্লান্ত দিন, সিগারেট আর ম্যাগাজিন
বাড়ছেনাতো বাজার দর, বাড়ছে শুধুই আড়ম্বর
হাত তালি গালাগালি, একি লাগে মুখগুলি
অন্ধকার হয়ে যায় যখন
ঘর, ফেরা হয়নি আমার ঘর
চেনা হয়নি আমার ঘর
জানা হয়নি মনের মানুষটাকে

আবার জানি আজ রাতে, নতুন কোন জলসাতে
নিজের গানের সব কথা, লাগবে আবার ছাপোষা

ছন্দে বাঁধা তাধিনতিন, শব্দ কিছু অর্থহীন
আমার মন করে কেবল কেমন কেমন
ঘর, ফেরা হয়নি আমার ঘর
চেনা হয়নি আমার ঘর

জানা হয়নি মনের মানুষটাকে

দাস কেবিন

সোমবারে আসে স্বর্ণালী আর সুমন্ত
মঙ্গলে মিতা আর মন্টু
বুধবারে আসে বৈশাখী আর বিপ্লব
বৃহস্পতিবারে শেলী আর সন্তু
শুক্কুরবারে আসে সীমা আর শান্তনু
শনিবারে সুধা-সুধন্য
রবিবার বিকেলটা সবাই জানে কার
রবিবার আমাদের জন্য
ফিরে ফিরে সাতদিন দাস বাবুর এ কেবিন
কত প্রেমালাপে যায় ভরে
জায়গা নেই যে কোন আমাদের অন্য
তিনশ বছরের শহরে,
এই তিনশ বছরের শহরে

হাট-মাঠ সিনেমার হলটা
নেই যে কোন গলি-গলটা
একটু আপন করে বলবো কোথায় বল
মনের গোপন এই কথাটা
ময়দানে মীটিঙের শোরগোল
গঙ্গার ঘাটে ভিখিরির দল
তাই ঘুরেফিরে দাস বাবুর এই কেবিনটা
রয়ে গেছে সবচেয়ে সস্তা
এক কাপ চায়ে কেটে যায় আধঘণ্টা
দুই কাঁপে পৌনে তিন
ফিশ-চপ নিলে পাক্কা চার ঘন্টা
ডিশকো-বিরাজী নিলে প্রায় সারাদিন
এইভাবে কেটে যায় কত কত সপ্তাহ
বয়স শুধুই যায় বেড়ে
ভবিষ্যৎটা সেই যেমনটি ছিল রয়ে যায় নড়বরে
তবু ঘুরে সাতদিন দাস বাবুর এ কেবিন
কত প্রেমালাপে যায় ভরে
জায়গা নেই যে কোন আমাদের অন্য
তিনশ বছরের শহরে,
এই তিনশ বছরের শহরে

মাঝে মাঝে মনে হয় ধুচ্ছাই
এইবার আমি ঠিক পালাবোই
তবু রবিবার এলে সেই ঘুরে ফিরে
দাসবাবুর কেবিনটাতে চলে যাই
সেই টেবলে আঁকি বুঁকি কাটা
কাগজের ন্যাপকিনে কবিতাটা
পর্দাটা টেনে দিয়ে পৃথিবীর সব ঝঞ্ঝাট
আমি ভুলে যাই
তিনমাস হয়ে গেল, রঞ্জন রঞ্জনা
আসেনাতো আর ফিরে ফিরে
তার বদলে স্বার্ণালী আর সুমনতো
ফিরে ফিরে আসে সোমবারে
এখন সুরঞ্জনা শ্যামলের হাত ছেড়ে
শমিকের হাত ধরেছে
বিপ্লবদেরও নাকি শুনছি ইদানিং
কথা কাটাকাটি বাড়ছে, বাড়ছে
আমাদেরও ফিউচার খুবই অপরিষ্কার
ভরসা পাচ্ছিনা কোন
হাঁড়িমুখ করে বসে থাকে নীলা আজকাল


চাকরিটা পায়নি এখনো, চাকরিটা পায়নি এখনো

ববি রায়

আকাশের রং কালো হয়ে এলো বৃষ্টি নামবে এখনি জানি তবু
ছেঁড়া ছাতা নিয়ে ভিজে ভিজে আমি থাকবো দাঁড়িয়ে তোমার অপেক্ষায়
আরো একবার একই পথে চলে একই কথা বলে কাটবে সন্ধ্যেটা
তবু রাস্তা বদলে যেও না তুমি যেও না ফেলে আমায়


স্বপ্নের রঙ ফিকে হয়ে গেছে ভবিষ্যত আমার অনিশ্চিত
পেছনে আমার কানাগলি আর সামনে শুধুই গাঢ় অন্ধকার
গোলাপ কেনার সামর্থ নেই দেবার আছে শুধুই একটা গান
গানে গানে তাই করে যাই আমি তোমার কাছে একটাই আব্দার


ববি রায়ের সাথে চলে যেও না ছেড়ে যেও না
ববি রায়ের কথায় বয়ে যেও না ফেলে আমায়
জানি টাকা কড়ি আর মারুতি গাড়ির প্রয়োজন আছে
তবু হাল ছেড়ে দিও না
ববি রায়ের সাথে চলে যেও না- এ অসময়।


ছাপোষা এই টাইপিস্টকেই ভালো লেগেছিলো তোমার একদিন
টাইপ করার ফাঁকে তুমি চেয়েছিলে ভালোবাসার দাম
আঙুল আমাদের যন্ত্রের মতো লিখেছিলো শুধু ফরমায়েসি চিঠি
মন বলেছিলো অন্য কথা মন লিখেছিলো তোমার আমার নাম


বছর ঘুরে পদোন্নতির জোয়ারে তুমি ভেসে চলে গেলে দূরে
মেশিনপত্র গুটিয়ে নিয়ে চলে গেলে তুমি ববি রায়ের ঘরে
আজ তারই আব্দারে বাড়ছে তোমার ওভারটাইম বাড়ছে ঠোটের রং
তারই আব্দারে তারই গাড়ি চড়ে হয়তো ফিরবে তুমি তোমার ঘর


ববি রায়ের সাথে চলে যেও না ছেড়ে যেও না
ববি রায়ের কথায় বয়ে যেও না ফেলে আমায়
জানি টাকা কড়ি আর মারুতি গাড়ির প্রয়োজন আছে
তবু হাল ছেড়ে দিও না
ববি রায়ের সাথে চলে যেও না- এ অসময়


পৌনে একটা বাজতে চললো এখনো জ্বলছে ববির ঘরের আলো
ঘুমিয়ে পড়েছে অফিস পাড়া ঘুমিয়ে পড়েছে গেটের দারোয়ান
টাইপ মেশিন নীরব তোমার শুনতে পাচ্ছি শুধুই তোমার হাসি
হাসতে হাসতে করছো কি তুমি আমার ভালোবাসার অপমান?


জানি আমার মতোই তোমার ঘরে টনটন করে নিদারুণ অভাব
তবু পারবে কি কেউ দিতে তোমায় সত্যিকারের ভালোবাসার দাম
পারবে কি তুমি ভুলতে তোমার ভাঙা দেয়াল তোমার কানাগলি
পারবে কি তুমি ফেলতে মুছে মনের ভেতর টাইপ করা নাম?


ববি রায়ের সাথে চলে যেও না ছেড়ে যেও না
ববি রায়ের কথায় বয়ে যেও না ফেলে আমায়
জানি টাকা কড়ি আর মারুতি গাড়ির প্রয়োজন আছে
তবু হাল ছেড়ে দিও না
ববি রায়ের সাথে চলে যেও না- এ অসময়


আবার বলছি তোমায়

ববি রায়ের সাথে চলে যেও না ছেড়ে যেও না
শোনো ববি রায়ের কথায় বয়ে যেও না ফেলে আমায়
জানি টাকা কড়ি আর মারুতি গাড়ির প্রয়োজন আছে
তবু হাল ছেড়ে দিও না
ববি রায়ের সাথে চলে যেও না- এ দুঃসময়।



ভালোবাসি তোমায়

ফেলে আসা গান, ফেলে আসা জলসা
ফেলে আসা বন্ধু, ফেলে আসা রাস্তা
ফেলে আসা কত কথা, ফেলে রেখে এসেছি
ফেলে আসা সময়

ফেলে আসা সাহস, ফেলে আসা ভয়
ফেলে আসা জুতো জামা ফেলে দিতে হয়
ফেলতে ফেলতে কিছু কথা থেকে গেছে, যেমন-
ভালোবাসি তোমায়
ভালো ভালোেভালো ভালো ভালো বা…সি তোমায়
এখনো ঠিকি ভালোবাসি তোমায়
একি ভাবে ভালোবাসি তোমায়

ফেলে আসা বাজারের ফেলে আসা দাম
ফেলে আসা তবলা হারমোনিয়াম
ফেলে আসা খাটুনির কত কাল ঘাম
হারিয়ে গেছে কোথায়
ফেলে আসা রাজনীতি, ফেলে আসা ভুল
ফেলে আসা গপ্পের ফেলে আসা গুল
ফেলতে ফেলতে কিছু কথা থেকে গেছে, যেমন-
ভালোবাসি তোমায়
ভালো ভালো ভালো ভালো ভালো বা…সি তোমায়
এখনো ঠিকি ভালোবাসি তোমায়
একি ভাবে ভালোবাসি তোমায়

ফেলে আসা রাগ, ফেলে আসা ক্ষোভ
ফেলে আসা বড়সড় কত মুল্যবোধ
ফেলে আসা আকাশের এক চিলতে রোদ
হারিয়ে গেছে কোথায়
আজ যেটা মিষ্টি, কাল সেটা ঝাল
টিকে থাকে না কিছুই চিরকাল
টিকে গেছে কেবল একটাই কথা
ভালোবাসি তোমায়
ভালো ভালো ভালো ভালো ভালো বা…সি তোমায়
এখনো ঠিকি ভালোবাসি তোমায়
একি ভাবে ভালোবাসি তোমায়।

ভেংছি কেটে দেখ

কল ঘরে কেউ বন্ধ করে দেয় যদি তোকে
কিংবা বোকা পাঠা বলে দেয় যদি বকে
কানের গোড়ায় মারলে পরে কান্না যখন পায়
প্রানটা খুলে গলা তুলে গাইবে তখন আয়
ভেংছি কেটে দেখ, লেংচি হেটে দেখ
একটা ডিগবাজি, পাচ্ছি হাসে খেক

ছেলেবেলায় করেছিলাম ইংরেজীতে ফেল
ছাদে বন্ধ করে রাখে সারাটা বিকেল
কাঁদতে কাঁদতে সন্ধ্যা নামলো হঠাৎ কোন ফাঁকে
একটা ভূতো নেমে এসেছিল আকাশের থেকে
পাই পাই করে তিন পাক ঘুরে ছাদের কার্নিশে
আঠারো বার হেচকি তুলে উনিশ বার কেঁশে
বললে আমায় কানে কানে মন্ত্র শিখে নে
এবার থেকে কান্না পেলে গাইবি গলা তুলে

সেই থেকে আর কান্না আমার পায়না কিছুতে
ভূতো গেছে মিলিয়ে কোথায় গানটা তো আছে
যতই মারুক কিল তাপ্পর দাওনা বকুনি
ভূতোর মন্ত্র সাথে আছে করবে আমায় কী

তোরাও যদি বাঁচতে চাস মন্ত্র শিখে নে
এবার থেকে কান্না পেলে গলাটা তুলে
গাইলে পরে দেখবি পরে কান্না যাচ্ছে পালিয়ে
করবেনা ভয় আর কোনদিন ঘরে বাইরে