অঞ্জন দত্ত, জন্ম: জানুয়ারি ১৯, ১৯৫৩, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত। আরো জানতে
এই ব্লগটা অঞ্জনের গান প্রেমীদের জন্য। আমার হাতে এখন অফুরন্ত সময়, অঞ্জনের গান শুনছি, ভাবলাম লিখে রাখি, পড়া যাবে কিন্তু তাও হচ্ছেনা। পায়ের সাথে চোখের সমস্যায়ও ভুগছি। শুনে শুনে লেখা তাই ভুল থাকবেই, ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।
অসময় (২০০০) লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
অসময় (২০০০) লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

ক্ষ্যাপার শহর

বয়স বাড়ছে, টাক পড়ছে, চোখে চালসে, পেটে চর্বি। মনের ভিতর একটা অশান্তি আর জ্বিবের তলায় সর্বক্ষণ একটা তেতু স্বাদ। আমার এ শহর থেকে আমার যাবতীয় গান কিন্তু বয়সের সঙ্গে আমার শহরও পাল্টেছে। অন্তত আমার কাছে। তাই আমার গানের বয়সও হয়তো বাড়ছে।

মেঘ জমেছে আবার আকাশে
ভিড় জমেছে ফুটপাথের ধারে
ডাকছে আবার নিয়ন আলো তোমাকে আমাকে
সন্ধ্যে নামছে ক্ষ্যাপার শহরে
ভুলতে চাইছে শ্যামলেন্দু হেরে যাওয়ার জ্বালা
মাত্র দেড়শ টাকা বাড়লো ইনক্রিমন্ট
ভুলতে চাইছে মাধবী তার শুভদৃষ্টির মালা
কিন্তু চাকরি হচ্ছেনা যে পার্মানেন্ট
ভুলতে চাইছে সকলেই সকলের যন্ত্রণা
কত স্বপ্ন হয়ে যাচ্ছে বেহাল
কিছুক্ষণের জন্য তাই আসছে এ শহরে
ভুলে থাকার একটা ক্ষ্যাপা রাত
ভুলে ভরা ভুল ভুলাইয়্যা অলিতে গলিতে
বাড়ছে ভুলে থাকার বাজার দর
ভুলে ভরা জীবনগুলো বুকে করে নিয়ে
চলছে আমার ক্ষ্যাপাটে শহর

চাইছে কিনতে মনটা, মোবাইল টেলিফোনটা
কিন্তু পকেট বড়ই, বড়ই কমজুরি
তাই কিনে ফেলতে হলো, কিছু কিনতে হবে বলে
ফুটপাথের প্লাষ্টিকের ঘড়ি;
যতই সন্ধ্যে বাড়ে, এই ভুলে থাকার নেশাটাকে
দমিয়ে রাখা বড় মুশকিল
তাই কিনে ফেলল শশী, একটা লাল রঙের শিশি
নয়নী কান নতুন হাই হিল
কিনছে, সবাই কিনছে, কী কিনছে জানেনা
কিনছে গোটা ধর্মতলার মোড়
এই কেনাকাটির ঠেলায় ভুলে থাকছি মনের জ্বালা
হেরে যাওয়া ক্ষ্যাপাটে শহর
একটু নেশা, বেসামাল কথা, জড়িয়ে যাচ্ছে বাড়ি ফেরার পাট
তাই কিনে ফেলল সোমনাথ নেশার অজুহাতে এই ক্ষ্যাপা শহরের রাস্তাঘাট


মেঘ জমেছে আবার আকাশে
ভিড় জমেছে ফুটপাথের ধারে
ডাকছে আবার নিয়ন আলো তোমাকে আমাকে
সন্ধ্যে নামছে ক্ষ্যাপা শহরে
ভুলতে চাইছে ধর্মতলা, একাত্তের জ্বালা
ভুলতে চাইছে কত ভাঙা ঘর
ভুলতে পারছে না যে কত নোনা ধরা দেয়াল
সে দিনের সেই ক্ষ্যাপাটে শহর
ভুলতে চাইতে সকলেই সকলের যন্ত্রণা
কত স্বপ্ন হয়ে যাচ্ছে যে বেহাল
তাই কিছুক্ষণের জন্য নেমে আসছে এ শহরে
ভুলে থাকার একটা ক্ষ্যাপা রাত



অ্যালবামঃ অসময়

ছোটদের ছোট্ট গান

চোখ দুটো দেখছে কী সত্যি
নাকী সব খবরের কাগজ
মন থেকে বলছি কী কথাটা
আমরা সবাই রোজ রোজ,
শেষ কবে কান্নাটা কাঁদলে
পড়ছে কী মনে, নাকী ভুলেছ
ফুল পাখি গাছ পালা বৃষ্টি
শেষ কবে এইসব ভেবেছ;
অন্যের জন্যে কী কষ্টে
দুঃখটা রাগ হয়ে যায়
মন থেকে কোন কিছু দিয়ে দিতে
করছে কি আজ কাল ভয়, ভয়,
ভালবাস মানে একটি বাসা কী
ঘরে ফিরে আসা মানে আসা কী
বিশ্বাসে বিশ্বাস আছে তো
চলছি, না ভেসে ভেসে যাচ্ছি




অ্যালবামঃ অসময়

নীল

নীল মানে ফেলে আসা সকলের আকাশের একটা নাম
নীল মানে ভালবাসার গভীরে লুকনো একটা রঙ,
নীল একটা চেনা চেনা কবেকার নীলিমার অন্য নাম
নীল একটা নাম

লাল একটা মোজা পরে ছেলেটা রেলিঙে দুলে যায়
লাল মানে ছেলেবেলার সূর্যটা ড্রয়িংয়ের খাতায়
লাল আজকে আমার কাছে রাজনীতি,
বড় হয়ে গেছি যে হায়, কী করা যায়

সবুজ মানে গাছের পাতা বেড়ে যায়, সবুজের স্বভাব
গাছ পোতা হয়নি বলে শহরে, সবুজের অভাব
সবুজ রঙের মনটা ছিল আমারও, কী যে হলো, কোথায়, কোথায়

ভয় মানে কালো কালো ছায়াটা দেয়ালে রাত্রিরে
চোখটা বুঝে ফেলতে হবে নইলে ভয়, নইলে ভয় যাবে বেড়ে
ভয় একটা ছিল যে ছেলবেলা, মিথ্যে বলা গেছে আজ হারিয়ে

হাসি মানে মজা পেলে হাসতে চাও, হেসে যাও আজীবন
একটু হাসির জন্য আমি কাঁদি আজ, হাসতে চাই তোমার মতন
একটু হাসবো তোমার সাথে বলে তাই,
আমি লিখে যাই একটা গান, আর একটা গান


নীল মানে ফেলে আসা সকলের আকাশের অন্য নাম
নীল মানে ভালবাসার গভীরে লুকনো একটা রঙ,
নীল একটা চেনা চেনা মুখ আমার, বাঁজায় গীটার, হরদম,


নীল একটা নাম



অ্যালবামঃ অসময়

অসময়

সেই মন প্রাণ খুলে গল্প করার দিন শেষ 
শুধু তাড়াহুড়ো করে যদি কিছু কথা বলে ফেলা যায়, 
সময় যা ছিল হাতে সবটাই নিঃশেষ 
পড়ে আছে শুধুই অজস্র অসময়। 
তাই হলদে পাখীরা এই শহরে আর ফিরে আসেনা 
শুধু বেড়ে চলে ডিজেলের ধোঁয়া রাস্তায়,
সেই ন্যাংটা ছেলের দল ফুটপাত ঘিরে আর হাসেনা 
বেড়ে গ্যাছে রাতারাতি বয়স, অসময়। 
তাই বৃষ্টি নামলে পরে মন আর জুড়িয়ে যায়না
শুধু চ্যাপছয়াপে কাঁদা আর প্যাঁচপ্যাঁচে সংশয়, 
কারও মুখে আর কোন মিষ্টি হাসি মানায়ানা
তেতো হয়ে গ্যাছে সব হঠাৎ, অসময়। 
তাই কোনদিন যদি একা একা একা জানলার পাশে 
কোন খয়েরী বিকেলবেলা কান্না পেয়ে যায়, 
নিয়ে কথার ছলে শ্যাওলায় ভেজা গানটা আমার
ফিরে আসব তোমার কাছে হঠাৎ অসময়। 

আজ বৃষ্টি নামবে বলে বেড়ে গ্যাছে তাড়াহুড়ো সকলের 
ভাসবেনা নীল কাগজের নৌকো নালায়,
আজ তাড়াহুড়ো করে গিয়ে ঘরের দরজাটা বন্ধ
ভেসে যাবে শরীর,আবার অসময়.।
তাই স্যাঁতস্যাঁতে সকলের ঘরদোর, চৌকাঠ 
রোদের রং শুধু বদলায় আকাশের গায় 
মনের ভেতর সব হয়ে গ্যাছে অকারণ ফ্যাকাশে, 
বিস্বাদে ভরা চোখ দেখে যায়, অসময়। 

তাই হলদে পাখীরা এই শহরে আর ফিরে আসেনা, 
শুধু বেড়ে চলে ডিজেলের ধোঁয়া রাস্তায়। 
সেই ন্যাংটা ছেলের দল ফুটপাত ঘিরে আর হাসেনা 
বেড়ে গ্যাছে রাতারাতি বয়স,অসময়। 
তাই কোনদিন যদি একা একা একা জানলার পাশে 
কোন খয়েরী বিকেলবেলা কান্না পেয়ে যায়, 
কথার ছলে এই গানটা তোমার কাছে 
নিয়ে আসব ফিরে হঠাৎ অসময়। 
আমি আসব ফিরে হঠাৎ অসময় 
আমি আসব ফিরে সময় অসময় 
নিয়ে আসব ফিরে হঠাৎ অসময়.... 



অ্যালবামঃ অসময়

Happy Birthday

এই গানটাও শুরু হয়েছিল একটা চিঠি দিয়ে, অ্যামেরিকার ম্যানহাটন শহরে একটা বারে বসে লেখা ইংরেজীতে। খুবই ব্যক্তিগত চিঠি। আমার সব অ্যালবামে দশ কিংবা এগারোটা করে গান থাকে, এবারেরটা রেকর্ড করতে গিয়ে দেখলাম, গান শর্ট পড়ছে। মাত্র আটটা, তাই ইংরেজী চিঠিটা জুড়ে দিলাম। আমার বিশ্বাস আপনারা যারা আমার গান শুনেন, বাংলা গানের অ্যালবামে ইংরেজী গান শুনে রেগে যাবেন না।

Chhonda I am writing this letter to you
from a manhattan pub and its twelve fifty two..
They've switched off the music and they're washing the glass,
got to return back to my hotel..
There's so many things that i want to say,
now that i 've come so far way..
All the wrong things i've done and all the wrong things i've said
what u mean to me today.
And i want to ask you how things are at home,
whether u miss me, what u cooked yesterday..
but this napkins is too small to fit in all that
and they have shut down the mall..

Outside the broadway it's cold and its blue
and my pocket is bury as the soles of my shoe..
I wish I could stay  here and talk about you
to the old man behind the bar..
I wish i could tell you what this day means to me,
wish i could write a fancy poetry,
but all I've written in the past half an hour
is a little "happy birthday to you".

I am sorry to be such awefull old man
I wish I could make u understand
but since I am so far, so far away from you
well a little "happy birthday to you"!


ছন্দা এই চিঠিটা লিখছি তোমায়,
একটা ম্যানহাটন বার থেকে রাত বারোটায়..
ওরা নিভিয়ে দিচ্ছে আলো, ধুয়ে ফেলছে গেলাস,
আবার সেই সস্তার হোটেল
আজ অনেক কিছুই বলতে চাইছি তোমায়,
বসে এই সুদূর আমেরিকায়,
রোজকার সেই একঘেয়ে মিথ্যে কথা নয়,
মনের ভেতর থেকে
ইচ্ছে করছে জানতে কাঁদছে কি মন?
কি করছে আমার কলকাতা এখন
কিন্তু ন্যাপকিনটা বড়ই ছোট ভেতরটা নীল,
আর পেন এর কালি ফুরিয়ে গেছে..
বাইরে ব্রডওয়ে ধোয়াশায় ভেজা,
ভেজা আমার ছেড়া জুতার শুকতলাটা,
আর পকেটেও মাত্র ডলার ছ'টা,
শেষ হুইস্কিটাও ফুরিয়ে গেছে..
আমি জানি আমি লোকটা সুবিধের নই,
সব ছেড়েছুড়ে বেড়াই ঘুরে বিদেশ-বিভূঁই..
তবু ন্যাপকিনটা আজ আমি পোস্ট করবই
নেশা কেটে যাওয়ার আগে..
ইচ্ছে ছিল লেখার তোমায় অনেক কথা
বড়সড় মানেওয়ালা কবিতা..
কিন্তু ঘন্টাখানেক ধরে শুধু একটাই কথা লিখেছি -
Happy Birthday to you........




অ্যালবামঃ অসময়

চোখের জল কিংবা পানি

বাংলাদেশে অনুষ্টান করতে যাই, ফিরে এসে সেই ছোট্ট প্রাণবন্ত দেশটাকে নিয়ে কিছু গান লিখি, আমার বাংলাদেশের শ্রোতাদের জন্য। তার মধ্যে এই গানটা মনে হয় আমার এই বাংলার কিছু মানুষের হয়তো খারাপ লাগবেনা।

বেইলী রোডের ধারে, আমি দেখেছি তোমায়
রাতের অন্ধকারে, আমি দেখেছি তোমায়
আমার বউ বাজারে,আমি দেখেছি তোমায়
দু’দিকের কাঁটা তারে আমি দেখেছি তোমায়
এখানে তুমি হাসি মল্লিক,ওখানে হাসিনা
এখানে তোমার দাম পঞ্চাশ, ওখানে কত জানিনা
নিয়ন আলোয় ঝলসে যাওয়া দুটো শহরের রাত
বেঁচে থাকার জন্য কেনা বেচার দুটো হাত
ডলারের হার কমলে, তাদের দর বদলায়
চোখের জল কিংবা পানি, সেতো নোনতাই থেকে যায়।

কারো খদ্দের টয়োটা চড়ে, কারোর মারুতি জেন
কারো চোখে দিশি নেশা, কারোর ফরেন
তবু চাহিদা সেতো একটাই, একটুখানি সুখ
তাই একই ভাবে লাঞ্ছিত হয় দুটি দেশের মুখ
তবু আবার সকাল আসে, ওরা স্নান করে যায়
দুজনেই মনে মনে, বাংলায় গান গায়।
ডলারের হার কমলে, তাদের দর বদলায়
চোখের জল কিংবা পানি, সেতো নোনতাই থেকে যায়।

এখানে ঘোলাটে গঙ্গার জল, ওখানে ইছামতি
নোংরা নষ্ট, হাজার কষ্ট তবু বয়ে চলে ঠিকই
চেপে রাখা ক্ষত, যত যত হাহাকার
বিশ্বের কাছে দেনার দায়ে লাঞ্ছিত বারবার
তবু আবার রঙ চাপিয়ে, দাঁড়াতেই হয়
বেঁচে থাকার জন্য, বিশ্বের রাস্তায়।
ডলারের হার কমলে, দেশের দর বদলায়
চোখের জল কিংবা পানি, সেতো নোনতাই থেকে যায়।



অ্যালবামঃ অসময়

দার্জিলিং ২

কুয়াশায় ঘেরা ভাসা ভাসা সেই পাইন গাছের ফাঁকে ফাঁকে রোদ্দুর
খাদের ধারে শুয়ে শুয়ে হাতে পায় হলদে সবুজ রং
ছিলনা বালাই সময়ের শুধু  আকাশে একটা নেপালী গানের সুর
আমার পাহাড়ি ছেলেবেলার একটা গান

সূর্যের গন্ধটা নিয়ে পকেটে আমার কেটে গেছে কত রাত
হাতের মুঠোয় শিশির ভেঁজা গোটা দার্জিলিং কেলিম্পং
আমার সাহেবি স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে সেই চ্যাপ্টা ভালবাসা
আমার পাহাড়ি ছেলেবেলার একটা গান

আজ সূর্যটা গেছে হারিয়ে আমার পকেট থেকে, কে জানে কোথায়
কুড়িয়ে পাওয়া নুড়ি পাথর পাহাড়ি ফুল গেছে শুকিয়ে
খুঁজে ফিরি শুধু হাততালি এই সাদাকালো শহরের জলসায়
সেই চ্যাপ্টা ভালবাসা গেছে ফুরিয়ে

হয়তো নেপালী ছেলেটা এখনো সেই পাহাড়ের গায়ে গীটার বাঁজায়
আমার ছুটুর ফাঁকে খুঁজে ফিরি তার চোখের হলদে সবুজ রং
কোথায়, কোথায়, কোথায় আমার মুঠোর ভেতর আমার দার্জিলিং
শুধু গানেই থেকে গেছে আমার পাহাড়ি গান



অ্যালবামঃ অসময়

চালসে

কে খালি পেটে কখন শুতে যায় তার খবর রাখিনা আর
কে কার ঘর কী দিয়ে সাঁজায় আমার খবর শনিবার
সব যাপসা হয়ে যায় যখন তখন, এটা কী সত্যি চালসে
না কী দেখছেনা চোখ আমার তেমন করে আর, হয় গেছে চোখ দুটো আলসে

রাজনীতি হয়ে গেছে নোংরামি তাই, নই ভিখ আমি আর নই
অস্তিত্ব জানান দেয় আমার মোবাইল, আমি আশ্বস্ত হই
বধীর হয়ে গেছে মান অপমানবোধ, শুধু পাই হাততালি শুনতে
না কী শুনছেনা কান আমার তেমন করে আর, হয়ে গেছে কান দুটো আলসে
ঠিক ভুল নিয়ে আর তর্ক করিনা ভাই, সাতে পাঁচে নেই কোন আর
নির্ঝঞ্ঝাটে মালা, বেলা বোস গাই, কারো লেঁজে পড়ে না যে পা
আছে গ্রামোফোন মুখে দিয়ে কুকুরের ছানাটা, ঠিকঠাক গান বেচে চলছে
তাই সময়ের স্রোতে গা ভাসিয়ে দিয়েছি আমি, আগের থেকে আলসে
কে কোথায় রাস্তায় হাটু মুড়ে কেঁদে যায়, করিনা যে তার খেয়াল
চল্লিশ পাড় হয়ে গেছে তাই জগতটা এখন চার দেয়াল
শুধু যাপসা হয়ে যায় মাঝে মাঝে সব, এটা কি সত্যি চালসে
নাকী দেখছেনা চোখ, শুনছেনা কান, হয়ে গেছে সবকিছু আলসে... চলুক



অ্যালবামঃ অসময়

শীতকালের চিঠি

শীতকালের রাতগুলো কাটতে যে চায়না লিখছি এই চিঠি তাই যে তোকে
বাড়ির পেছনের বস্তিটা নিঃস্তব্দ হঠাৎ আজ রাতে কেন, কে জানে
শুধু মসজিদ থেকে ভেসে আসা বেসুরো প্রার্থনা লাগছে ভালো কেন জানিনা
মনে পড়ে যাচ্ছে ফেলে আসা কথা, ফেলে আসা ব্যথা হঠাৎ তোরে।

অমল এসেছিল অনেক কথা হলো, হাফ বোতল রাম এখনো আছে
নন্দা ভালোই আছে, নাঠক করেনা সে, নতুন করে জীবন সাঁজাচ্ছে
আর আমি এখনো যে করছি অভিনয়, খান দু'য়েক ছবি মৃণাল সেনের
স্বপ্না গিয়েছিল বেড়াতে, দেখা হয় তোর সাথে,
বললে তুই ভালোই আছিস, শুধু টুথব্রাশ নিয়ে পকেটে

অন্য কিছু একটা করবো বলে সবাই চরস খেলাম, কেউ চুল কাটিনি
লাল বইটা লুকিয়ে পড়ার সময় ভবিষ্যতের কথা কেউ ভাবিনি
রাস্তায় ছাত্রের নাঠকের পোস্টার মেরে, বব ডিলানে বঙ্গানুবাদটা করে
বাদল সরকারের মিছিলে দাড়িয়ে হারিয়ে গেলাম কে কোথায়
অমল তার ছেলের নাম রেখেছে বিমল, স্কুটার কিনেছে শ্বশুরের পয়সায়
রিতা ইন্দ্রজিতকে বিয়ে করেনি, ইন্দ্র চলে গেছে দূঃখে দুবাই
নন্দা এখনো মাঝ রাত্রিরে কাঁদে, ঘুমচ্ছে সে ঘুমের ঔষধ খেয়ে
আর আমি এখনো যে করছি অভিনয়, খান দু'য়েক ছবি, তাও মৃণাল সেনের

স্বপ্না গিয়েছিল বেড়াতে, দেখা হয় তোর সাথে,
বললে তুই একই আছিস, শুধু টুথব্রাশ নিয়ে পকেটে



অ্যালবমঃ অসময়

কত শিক্ষা

কত শিক্ষা, কত বুদ্ধি, কত কোটি কোটি টাকার বদলে
বানিয়েছে বোমা আমার দেশ আমায় রক্ষা করবে বলে
সেই একই দেশে গোটে শহর যায় ভেসে বানের জলে
কিসের জন্য মানুষ চাঁদে যেতে চায়
যদি বছর বছর একই মানুষ বানের জলে ভেসে যায়
এত অংক কষা, এত যন্ত্রপাতি কিসের দায়

কোন হতাশায় বলেছিল হে রাম, মোহন দাস
সেই থেকে শুরু কী রাম বংশের পরিহাস
গেল ভেসে গেল রক্তে আমার পনেরই অগাস্ট
কোন সাহসে বুকে বোমা বাঁধে একটা তামিল মেয়ে
কিসের জন্য ধ্বংসের স্বপ্ন দেখে সে
নিভে গেল কেন তার চোখের আলো ঐ কচি বয়সে
কী লিখব, কী গাইব আমি আজ এ অসময়
কিসের জন্য তোমাদের এই জলসায়
আমার কলম থেমে যায় বারবার একই লজ্জায়
সত্যি কথা বলতে কি পারছি আমি তোমায়
আমার পঞ্চাশ বছরের স্বাধীনতা গেল কোথায়



অ্যালবামঃ অসময়