অঞ্জন দত্ত, জন্ম: জানুয়ারি ১৯, ১৯৫৩, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত। আরো জানতে
এই ব্লগটা অঞ্জনের গান প্রেমীদের জন্য। আমার হাতে এখন অফুরন্ত সময়, অঞ্জনের গান শুনছি, ভাবলাম লিখে রাখি, পড়া যাবে কিন্তু তাও হচ্ছেনা। পায়ের সাথে চোখের সমস্যায়ও ভুগছি। শুনে শুনে লেখা তাই ভুল থাকবেই, ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।
পুরনো গিটার (১৯৯৫) লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
পুরনো গিটার (১৯৯৫) লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

ম্যারী এ্যান

কালো সাহেবের মেয়ে, ইশকুল পালিয়ে
ধরতে তোমার দুটো হাত
কত মার খেয়েছি, মুখ বুজে সয়েছি
অন্যায় কত অপবাদ
বয়স তখন ছিলো, পনেরো তাই ছিলো
স্বপ্ন দেখার ব্যারাম
মাথার ভেতর ছিলো, এলভিস প্রিসলি
খাতার ভেতর তোমার নাম
ম্যারী এ্যান, ম্যারী ম্যারী এ্যান
ম্যারী এ্যান ম্যারী

করে সব এলোমেলো, এলভিস চলে গেলো
কেটে গেলো বছর অনেক
তোমারো মামা কাকা, একে একে পাড়ি দিলো
সব্বাই মিলে বিলেত
রয়ে গেলে তোমরা আকড়ে রিপন স্ট্রিট
দু’টো ঘর সিড়ির তলায়
নোনা দেয়াল থেকে, যীশু ছলছল চোখে
হাত তুলে আশ্বাস দেয় এখনো
ম্যারী এ্যান। ম্যারী ম্যারী এ্যান
ম্যারী এ্যান ম্যারী

রিকশায় চড়ে তুমি দুলে দুলে চলে যাও
আমার পাড়া দিয়ে প্রায়
পাক ধরে গেছে চুলে গাল দুটো গেছে ঝুলে
নিয়মিত অবহেলায়
কোন এক অফিসেতে শর্ট হ্যান্ড নিতে নিতে
নখগুলো গেছে ক্ষয়ে
ছোট্ট বেলার প্রেম, আমার কালো মেম
কোথায় গেলে হারিয়ে
ম্যারী এ্যান, ম্যারী ম্যারী এ্যান
ম্যারী এ্যান ম্যারী

তোমার বাবা ছিলো, ইঞ্জিন ড্রাইভার
আমার বনেদি ব্যবসা
বংশের ইজ্জত রাখতে হলে
বউ হতে হবে ফর্সা
বাঙালীর ছেলে তাই, গলায় গামছা দিয়ে
ফেললাম করে বিয়ে
ছোট্ট বেলার প্রেম আমার কালো মেম
কোথায় গেলে হারিয়ে
ম্যারী এ্যান, ম্যারী ম্যারী এ্যান
ম্যারী এ্যান ম্যারী

বৃষ্টি

আমি বৃষ্টি দেখেছি, বৃষ্টির ছবি একেছি
আমি রোদে পুড়ে, ঘুরে ঘুরে অনেক কেঁদেছি
আমার আকাশ কুসুম স্বপ্ন দেখার খেলা থামেনি
শুধু তুমি চলে যাবে, আমি স্বপ্নেও ভাবিনি
আমি বৃষ্টি দেখেছি
চারটে দেয়াল মানেই নয়তো ঘর
নিজের ঘরেও অনেক মানুষ পর
কখন কিসের টানে মানুষ
পায় যে খুঁজে বাঁচার মানে
ঝাপসা চোখে দেখা এই শহর;
আমি অনেক ভেঙ্গেচুরেও আবার শুরু করেছি
আবার পাওয়ার আশায় ঘুরে মরেছি
আমি অনেক হেরে গিয়েও হারটা স্বীকার করিনি
শুধু তোমায় হারাবো আমি স্বপ্নেও ভাবিনি
আমি বৃষ্টি দেখেছি

হারিয়ে গেছে তরতাজা সময়
হারিয়ে যেতে করেনি আমার ভয়
কখন কিসের টানে মানুষ
পায় যে খুঁজে বাঁচার মানে
ঝাপসা চোখে দেখা এই শহর
আমি অনেক স্রোতে বয়ে গিয়ে, অনেক ঠকেছি
আমি আগুন থেকে, ঠেকে শিখে অনেক পুড়েছি
আমি অনেক কষ্টে অনেক কিছুই দিতে শিখেছি
শুধু তোমায় বিদায় দিতে হবে স্বপ্নেও ভাবিনি।



তুমি আসবে বলে

তুমি আসবে বলে তাই
আমি স্বপ্ন দেখে যাই
আর একটা করে দিন চলে যায়,
সুদিন আসবে বলে ওরা আগুন জ্বালায়
আর হাজার হাজার মানুষ মরে যায়;
দেখবে বলে আকাশটাকে মাথা উঁচু করে
শুধুই নোংরা কালো ধোঁয়া ঢেকে যায়
কাছে আসবে বলে অন্ধকারে হাতড়ে মরে ওরা
তবু শরীর দুটো থাকে আলাদা,
আমার মনটা তবু আশা করে যায়
এই মনটা তবু ভালবাসতে চায়
এই মন… আশা করে যায়।


সময় ছুটে চলে, আমি আটকে পড়ে রই
আমার রাস্তা হাটে আমি হাটিনা
চোখে নিয়ে স্বপ্ন, বুকে নিয়ে অনেক অনেক কথা
আমার বয়েস বাড়ে, আমি বাড়িনা;
তুমি আসবে বলে তাই
আমি স্বপ্ন দেখে যাই
আর একটা করে দিন চলে যায়,
সুদিন আসবে বলে ওরা আগুন জ্বালায়
আর বেকার কিছু মানুষ মরে যায়।


আমার মনটা তবু আশা করে যায়
এই মনটা তবু ভালবাসতে চায়
এই মন… আশা করে যায়

দু’টো মানুষ

দু’টো মানুষ এসাথে কত পথ চলা
হাতে হাত রেখে কথা বলা
কেন সব করে অবহেলা
কেন শেষ-মেষে এসে বিদায়
ফুলদানি,
আছড়ে ভেঙ্গে চুড়মার
ফুল জল সব একাকার
নেমে আসে অন্ধকার
জানলার বাইরে নেমে আসে রাত
দু’টো বালিশ
কত স্বপ্ন ভালোবাসা বোঝাই
দেখে যায় এই কুৎসিত লড়াই
আশা আকাংখা সব পুড়ে ছাই
কেউ মুখ ফুটে কিছু বলে না

টেবিল ল্যাম্পের আধো অন্ধকারে
ভাঙ্গাচোড়া মন দুটো গুমড়ে গুমড়ে মরে
দুজনেই বসে থাকে হাত ধরবে বলে
কেউ মুখ ফুটে কিছুই বলে না
ভগবান তাই নেমে আসে না
আসে সকাল
চোখ মুছে চিঠি লেখা
ব্রিফকেস হাতে ট্যাক্সি ডাকা
ফিরে না তাকিয়ে দেখা


ইশ্,  এইভাবে কেউ চলে যায়

রাজু রাণী রেম্বু

তিন রাস্তার মোড়ে তিন বন্ধু
ছোটখাট তিনটে জীবন
রাজু রাণী রেম্বু
আজগগে ফুলও না, কাল ভিখেরী, পরশু পাউরুটি চুর
রাজু রাণী রেম্বু
দেখা হয় আমাদের তিন রাস্তার মোড়ে প্রায়
ট্যাক্সি খোজার ফাঁকে হামেশাই
অগুণতি মানুষের ভিড়ে আমি ঠিক খুজে পাই
হার না মানা প্রেমিকের তিন জোড়া চোখ
হঠাৎ পিছন থেকে চমকে দিয়ে ডাকে
নাকের সিকনি আর হাসি নিয়ে চকচকে
রাজু রাণী রেম্বু

শীতের সকাল আসে, লাল ফুল নিয়ে হাসে ট্যাক্সির জানালায়
রাজু রাণী রেম্বু
হিন্দি ছবির নাচ হুবহু ফুটপাতে গ্রীষ্মের দুপুর বেলায়
রাজু রাণী রেম্বু
হয়তোবা ফুটো পকেটের আদুলির বিনিময়
একরাশ সুখে টান দিয়ে প্রান খুলে গান গায়
চলন্ত মারুতি থেকে ছুড়ে দেয়া  করুনায়
কেনা যায় ফ্রুটকেক, কেনা যায় ম্যাকিনি সু

আমার এই শহরের প্রান ভোমরা আছে, সাগরের তলায় নয়
আছে রাজু রাণী রেম্বু
শ্বাসরুদ্ধ তবু মরছেনা কিছুতেই কলকাতা তাই
রাজু রাণী রেম্বু
বৃষ্টি ভেঁজা ঐ বাসের হাতলটায়
একফালি কুটবন আকড়ে ঝুলে থাকায়
নিদারুনভাবে এই ভীষন করে বাঁচায়
পাই আমি কোথা থেকে, কোথা থেকে সাহস।

স্যামসন

জ্বলছে নিভছে নিয়নের বিগ্গাপন
বৃষ্টিতে ভিঁজে গেছে রাস্তা, ভেঁজা ভেঁজা মন
লাস্ট ট্রাম ধরে ঘরে ফিরবে আবার স্যামসন
সাথে নিয়ে সঙ্গী শুধুই স্যাক্সোফোন
পাঁচতারা হোটেলের বাঁজনাওয়ালা ফিরে ঘর
এঁদো গলি সিড়ি ভেঙে স্যাঁতসেঁতে ছাদের উপর
 সস্তা মদে গেছে বিছানাটা ভিঁজে ধুয়ে মুছে গেছে যৌবন
স্যামসন আর তার সঙ্গী  স্যাক্সোফোন
এইভাবে খুন হয়ে যায় কত কত স্যামসন
হোটেলের কোণে খুন হয় কত কত স্যামসন
গোগ্রাসে গিলে চলে শহরটা, দেয় নাকো কান
এইভাবে খুন হয়ে যায় কত জীবনের গান

ডিলাইলা এসেছিল জীবনে একবার
দু'দিনের প্রেম গেছে দু'দিনে ভেঙ্গে চুরমার
বেচে নিয়ে চলে গেছে অন্য আরেকজন
ফেলে রেখে স্যামসন আর তার স্যাক্সোফোন
ক্রুশবিদ্ধ যিশু ক্যালেন্ডার থেকে কাঁদে
তারই মতো স্যামসন আটকে পড়েছে এক ফাঁদে
সস্তা হিন্দি সুর বাঁজিয়েই যেতে হবে এইভাবে যাবৎ জীবন
হোটেলের কোণে আলো আঁধারী নির্বাসন

আসবেনা ডিলাইলা কোনদিন বাঁচাতে তাকে
এইভাবে পঁচে গলে পাঁচতারা নরকে
নিঃশেষ হয়ে যাবে একদিন দু'জন
স্যামসন আর তার সঙ্গী স্যাক্সোফোন
ফুসফুসে লুকোনো আছে কত কত গান
জানবেনা কেউ সেই স্যাক্সোফোনের অভিমান
শুধু মাঝরাতে আকাশের চাঁদটা ঘুম ভেঙ্গে উঠে
শুনবে স্যামসনের সেই স্যাক্সোফোন 

যাচ্ছে চলে

যাচ্ছে চলে ট্রাম বাস ঠেলা টেম্পো


যাচ্ছে চলে শীত গ্রীষ্ম বসন্ত
যাচ্ছে চলে সব হন্তদন্ত হয়ে
এতসব যাচ্ছে কোথায়
যাচ্ছে গড়িয়ে পা কাঁটা ভিখেরীর দল
যাচ্ছে কাঁধে নিয়ে গ্যাস বাতি ঝলমল
যাচ্ছে শুকিয়ে কত চোখের জল
এতসব যাচ্ছে কোথায়

যাচ্ছে সরে মেঘ চাঁদটাকে ছাড়িয়ে
যাচ্ছে সবাই রোজ জন্জাল মারিয়ে
যাচ্ছে নেশার ঘোর জিবটাও জড়িয়ে
এতসব যাচ্ছে কোথায়
যাচ্ছে জমে কত আড্ডা তর্ক
যাচ্ছে ভেঙ্গে কত কত সম্পর্ক
বিগড়ে যাচ্ছে কতো দম দেয়া যন্ত্র
এতসব যাচ্ছে কোথায়

যাচ্ছে কালো হাতটাকে করা শক্ত
যাচ্ছে জুটে কত ভন্ডের ভক্ত
যাচ্ছে ঝরে কত মানুষের রক্ত
এত সব যাচ্ছে কোথায়
যাচ্ছে পুলিশ দিয়ে হরতাল ঠেঙানো
যাচ্ছে সৈন্যদের যুদ্ধটা করানো
যাচ্ছে মিথ্যে কথা সহজে রটানো
এত সব যাচ্ছে কোথায়
যাচ্ছে খুলে আবার ইশ্কুল গুলো
যাচ্ছে পড়ে মাথার সব চুলগুলো
যাচ্ছে হয়ে বারবার এক ভুলগুলো
এতসব যাচ্ছে কোথায়

যাচ্ছে হলদে হয়ে অ্যালবামের ছবিটা
যাচ্ছে ভুলে যাওয়া কত কত কবিতা
যাচ্ছে জন্ম দেয়া টেস্ট টিউব বেবিটা
এত সব যাচ্ছে কোথায়
যাচ্ছে জগৎটা তাই ঘুরে যাচ্ছে
যাচ্ছে পেটটা ভরে তবু খিদে পাচ্ছে
যাচ্ছে তাই যে কতকিছু রোজ ঘটছে
এতসব যাচ্ছে কোথায়

যাচ্ছেনা এড়ানো শেষ শুয়ে পড়াটা
যাচ্ছেনা থামানো শেষ কাঁধে চড়াটা
যাচ্ছেনা জাগানো শশ্মানের মরাটকে
যাচ্ছেনা তাই সে কোথায়



ক্যালসিয়াম


ডাক্তার বলছে ক্যালসিয়ামটা কম
টিউটর বলছে অংকটা কমজুরি
ছোট'কা বলছে দুচ্ছাই নেই তোর দম
ঠাম্মা বলছে আঁচার গেছে চুরি
পিসি বলছে বকে গেছে হিন্দি ছবি দেখে
দিদি বলছে ভীষন আনস্মার্ট
দাদু বলছে সময়টাই গোলমেলে করবে কী
জ্যাঠা বলছে পেঁদিয়ে উল্কাট
চাঁদের বাতি বলছে আয়
ছুটে আয় খালি পায়
আকাশ বলছে গলা খুলে গা
দুপুর বলছে কান্না পেলে
ছাদে উঠে গিয়ে
সবাই যা বলঝে ভুলে যা

মা বলছে দুধটা একদম মুখে তুলছেনা
হরলিক্স বলছে এমনি এমনি খাও
আন্টি বলছে আগে এত কেয়ারলেস ছিলনা
বাবা বলছে জাহান্নামে যাও
পাশের বাড়ির বৌদি বলছে আঁকার স্কুলে দিন না
মামা বলছে স্পোকেন ইংলিশ উইক
দাদু বলছে সময়টাই গোলমেলে করবে কী
জ্যাঠা বলছে পেঁদালেই সব ঠিক

সুমন বলছে পারো যদি অন্য ছবি এঁকো
টিনটিন বলছো চলো অ্যান্টার্কটিকা
টিভি বলছে বলো আই এ্যাম এ্যা কম্প্লেন বয়
অঞ্জন বলছে টিভি দেখোনা
টকসেটাই বা কেন লেখা বন্ধ করে দিল
ফেলুদা কিছুই বলছে না
দাদু বলছে সময়টাই গোলমেলে করবে কী
জ্যাঠা বলছে পেঁদালেই সোজা
ছাদের পাচিল বলছে আয়
ছুটে আয় খালি পায়
আকাশ বলছে গলা খুলে গা
দুপুর বলছে কান্না পেলে
ছাদে উঠে গিয়ে
সবাই যা বলঝে ভুলে যা

জিগির ব্যাম জিগির ব্যাম জিগির ব্যাম ব্যাম বো

রমা

মাগো আমার মাগো জানি
অনেক কষ্ট পাবে তুমি
তবু আমার নেই কোন উপায়
যেতে আমায় হবে সে যে
ট্যাক্সি নিয়ে বসে আছে
বাসটা পেতে আমার অপেক্ষায়
জি'য়ের সাঁজে ঘোমটা টেনে
বাবা কাকার চোখ এড়িয়ে
যাচ্ছি ছেড়ে ছোটবেলার ঘর
অনেক ভাবনা চিন্তা করেও
পারছিনা যে মেনে নিতে
তোমাদের পছন্দ করা বর
মাগো মা, চললাম আমি
করতে নিজের সংসার
মাগো মা, ফিরে আসছিনা
ইতি তোমার আদরের রমা

গয়নাগাটি বেনারশী
সবই খুলে যাচ্ছি চলে
শুধু নিলাম একটা মাত্র হার
আর আছে তোমার দেয়া
ছোটবেলার সাহস অনেক
সেটাই সবচে বড় উপহার
অনেক অপমানোর বোঝা
রইলো তোমাদের কপালে
জিয়ের মুখে কেলেংকারিটা
কিন্তু মাগো নয় যে এ আর
পুতুল নিয়ে খেলনাবাড়ি
সত্যি সত্যি সংসার আমার
মাগো মা, চললাম আমি
করতে নিজের সংসার
মাগো মা, ফিরে আসছিনা
ইতি তোমার আদরের রমা

মাগো তুমি বলেছিলে
মানুষ চেনা শক্ত বড়
মনটা আসল, পয়সা কড়ি নয়
অনেক বড়লোকের ছেলে
ছলে বলে মিথ্যে বলে
ঠকিয়ে নিতে চাইবে যে আমায়
কিন্তু এ যে দেখতে শুনতে
নয় যে তেমন দারুণ ভালো
আছে যে তার হাজার গন্ডা দোষ
নেইকো যে তার টাকাওয়ালা বাবা কাকা
আছে শুধু সত্যি কথা বলার সৎ সাহস
মাগো মা, চললাম আমি
করতে নিজের সংসার
মাগো মা, ফিরে আসছিনা
ইতি তোমার আদরের রমা

পুরনো গিটার

এই বুড়ো পুরনো গিটার দিয়েছে, কত কিছু দিয়েছে
ছোটখাট সুখ, মান অভিমান,দুঃখের গান দিয়েছে
রোজ রোজ কত কত হাজার হাজার ভয় মনে যখন ভিড় করেছে
ঘরের কোণে আপন মনে, সেই ভয়গুলো কাটিয়ে দিয়েছে
ছেলেবেলার সেই পাতাঝরা পাহাড়ে ঘুরেছে একেবেকে মন যখন
এই বুড়ো পুরনো গিটার ছিল সঙ্গী আমার তখন
কাল কেটে গেছে কত, কেটেছে আঙ্গুল, কত রাত জেগে জেগে কেটেছে
জীবনে প্রথমবার ভালবাসা হারানোর যন্ত্রণা ভুলিয়ে দিয়েছে
এই বুড়ো পুরনো গিটার

কলের গানের সুরে হারিয়ে গিয়ে, খুজে পাওয়া নিজেকে আবার
পৃথিবীর কত কথা কাছে এনে দিয়েছে আমার পুরনো গিটার
জন লেনানের সোচ্চার ভালবাসা, বব ডিলানের অভিমান
হুট করে ভাললেগে ভালবেসে, কাওকে তাড়াহুড়ো করে লেখা গান
ফেলে আসা কত মুখ, কত নাম ঠিকানা বারবার ফিরিয়ে দিয়েছে
নানা কথা, নানা সুরে গান নিয়ে ঘুরে ঘুরে সুমনের কাছে এনে দিয়েছে
এই বুড়ো পুরনো গিটার

ইদানিং হঠাৎ করে অনেক ভালবাসার মাঝে এনে ফেলেছে আমায়
নিজের মত করে কিছু কথা বলবার সুযোগ করে দিয়েছে আমায়
ভাবিনিতো কোনদিন আমার এই বন্ধুটা, হয়ে যাবে বন্ধু সবার
ভাবিনিতো কোনদিন শুনবে সবাই আমার পুরনো গিটার
এই বুড়ো পুরনো গিটার, দিয়েছে তোমাকে দিয়েছে
এলোমেলো কত সব অন্য লোকের গানে তোমাকে কাছে টেনে নিয়েছে
তোমাকে নিয়ে কোন গান লেখা হয়নি, চেষ্টা করেছি বহুবার
রয়ে গেছে সব কথা অলিখিত তার কাছে আমার পুরনো গিটার
সে যে আমার পুরনো গিটার